চামড়া শিল্প নগরী পেল আরো এক বছর

এখন পর্যন্ত সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ২০২০ সালের জুনের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে। তিনটি ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ বাকি আছে

পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরী স্থাপনের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্পনগরীকে সাভারে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছিল সেই ২০০৩ সালে। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি সাভার চামড়া শিল্পনগরীর। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিনবার। কিন্তু ওই সময়েও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এবার চতুর্থবারের মতো প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, এবার শেষবারের মতো সময় দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক)। এরপর আর সময় দেওয়া হবে না। এ সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, হাজারীবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ১৫৫টি চামড়াশিল্পকে পরিবেশসম্মত স্থানে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে ১৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বিসিক। হাজারীবাগে ট্যানারির কারণে প্রচুর পরিমাণে পরিবেশ দূষণকারী তরল ও কঠিন বর্জ্য নির্গত হওয়ার কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে যায়। প্রকল্পটি নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বুড়িগঙ্গা নদীকে রক্ষা করা। একই সঙ্গে হাজারীবাগে পরিবেশ দূষণকারী কারখানাগুলোকে ঢাকার অদূরে সাভারে আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাসহ একটি চামড়া শিল্পনগরী স্থাপন করা।

এরপর তিন দফা প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে। ১৭৬ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৯ কোটি টাকা। অবশ্য গতকাল প্রকল্পটি একনেক সভায় সংশোধিত আকারে যখন অনুমোদিত হয় তখন প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ৭৯ কোটি থেকে কমে হয়েছে এক হাজার ১৫ কোটি টাকা।

বিসিক থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ২০২০ সালের জুনের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তিনটি ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ বাকি আছে। স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের (এসটিপি) কাজও বাকি আছে। সে কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে এক লাখ চালককে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল একনেক সভায় ২৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান নামের একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের এক লাখ দুই হাজার ৪০০ গাড়িচালককে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর তাঁদের সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাকরি দেওয়া হবে।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বিদেশে যারা কাজ করতে যায়, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে গাড়িচালকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এক লাখ ভালো মানের চালক পাওয়া গেলে দ্রুতই তাদের চাকরি দেওয়া সম্ভব। এটি শুধু সৌদি আরবেই, অন্য দেশ তো আছেই। প্রশিক্ষণ শেষের সঙ্গে সঙ্গে তারা চাকরি পেয়ে যাবে।’

গতকাল একনেক সভায় মোট ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে চার হাজার ৬১২ কোটি টাকা। পুরো টাকাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—৪০১ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, ৩৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার এবং বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ, এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ, ৯৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসির জন্য অফিসার্স মেস নির্মাণ প্রকল্প।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর