৭ মাসের শিশু ইব্রাহীম হোসেন রুজবীকে নিয়ে ফেরা হল না বাবা মেজবাউল আলম মাসুম, মা রুনা খাতুনের। এ নিয়ে দাদী মাহমুদা বেগম, চাচা জালাল উদ্দিনসহ এলাকাবাসী সবাই শোকে মুহ্যমান।
এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। ফলে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সরেরহাট গ্রামে এখন কান্নার রোল পড়েছে। লাশ এখনও বাড়ি পৌঁছেনি। গ্রামের হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে লাশের জন্য।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ভেড়ামারা পার-হাউস যাত্রীছাউনির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সিএনজিচালক সুবির গাইনের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪০), মেজবাউল আসুম (৩৫), তার স্ত্রী রুনা বেগম (২৬), ছেলে ইব্রাহীম হোসেন রুজবী (৭ মাস), মাসুমের মা মাহমুদা বেগম (৫৪)।
জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সরেরহাট গ্রামের মেজবাউল আলম মাসুমের বোন মাহমুদা আক্তার জেসমিনের বিয়ে আগামী শুক্রবার। এ দিকে স্ত্রী রুনা ও ৭ মাসের শিশু ছেলে ইব্রাহীম হোসেন রুজবীকে রেখে কিভাবে বোনের বিয়ে দিবেন।
পরিবাররের সম্মতিতে মেজবাউল আলম মাসুম তার মা মাহমুদা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী চাচাত ভাই জালাল উদ্দিনের সিএনজি নিয়ে ঝিনাইদহে আনতে যান। তারা দুপুরের খাবার শেষে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
পথিমধ্যে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ভেড়মারা পারহাউস যাত্রীছাউনির সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগামী একটি ট্রাক সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সিএনজিচালক জালাল উদ্দিন ও রুনা বেগম মারা যান। এ সময় রুনা বেগমের স্বামী মেজবাউল আলম মাসুম, ছেলে ইব্রাহীম হোসেন রুজবী, মা মাহমুদা বেগম আহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহীম হোসেন রুজবীকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত মাহমুদা বেগমকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখারকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশের এসআই আসাদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ মর্মে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে প্রেরণ করা হবে।
বার্তাবাজার/কেএ