ঢাকার সাভারে বকেয়া বেতন ভাতার দাবীতে বিক্ষোভ করেছে একটি তৈরী পোশাক কারখানার প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক। মঙ্গলবার (২৪ডিসেম্বর) সাভারের বিরুলিয়া সড়কের শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত আজিম গ্রুপের ‘গ্লোবাল আউটার লিমিটেড ও গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টস লিমিটেড’ কারখানায় এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কারখানার কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে ব্যাপক ভাংচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কারখানা দুটিতে একদিনের সাধারন ছুটি ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সুত্রে জানা যায়, আজিম গ্রুপের গ্লোবাল আউটার লিমিটেড ও গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার প্রায় ৭ হাজার শ্রমিক গত সোমবার থেকে তাদের নভেম্বর মাসের বকেয়া বেতন ও ওভারটাইমের দাবীতে কর্মবিরতীসহ বিক্ষোভ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালেও শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশের পর কাজ না করে দাবী আদায়ে কর্ম বিরতি সহ বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

এঘটনায় কারখানায় সাধারন ছুটি ঘোষনা করা হলে শিল্প পুলিশের সদস্যরা শ্রমিকদেরকে নিরাপদে কারখানা থেকে বের করে দেন। কিন্তু বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কারখানার মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে দাবী আদায়ে বিক্ষোভ ও পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপসহ লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কারখানার দুই কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছে।
আজিম গ্রুপের ব্যবস্থাপক (এ্যাডমিন ও অর্থ) এম.এ আকবর জানান, আমরা প্রতিমাসে নির্দিষ্ট সময়ে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে থাকি। কিন্তু সম্প্রতি কারখানায় কাজ কমে যাওয়ায় এই মাসে আমাদের বেতন পরিশোধে সময় লাগছে। তবে খুব শিঘ্রই শ্রমিকদের যাবতীয় পাওয়ানা পরিশোধ করা হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যপারে আশুলিয়া শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাসের জনি জানান , বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। শ্রমিকরা কারখানায় ভাংচুরের পাশাপাশি সড়কে অবস্থান নিয়ে যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটনালে আমরা তাদেরকে সরিয়ে দেই। এছাড়া যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বার্তাবাজার/এমকে