সিরাজগঞ্জে শৈত্য প্রবাহে মৌ-চাষিদের মাথায় হাত

চলতি শৈত্য প্রবাহে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় এবারের মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হলেও লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে মৌ চাষীরা।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলনবিল অঞ্চলসহ জেলার বির্স্তীণ মাঠ জুড়ে শুধু হলুদের সমারোহ। এসব ক্ষেতের পাশে বাসানো হয়েছে সারি সারি মৌ বক্স। আর এসব বক্সে থাকা মৌমাছির গুণগুণ শব্দে মুখরিত চারদিক। মৌ চাষীরা সামান্য পরিমাণ মধু সংগ্রহও করছে। তবে চলতি ৬দিন শৈত্য প্রবাহে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় তুলনামূলক চাহিদা মতো মধু তৈরী হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মৌ-চাষিরা।

আদর্শ মৌ খামারের মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, ২৫০ টি মৌ বক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ মন মধু সংগ্রহ করা যায়। সরিষার ক্ষেত্রে মৌ বক্স স্থাপনের কারনে সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পায়। খাঁটি মধু ক্রয় করতে অনেকেই চলে আসেন মাঠে। কিন্তু শৈত্য প্রবাহের কারণে বর্তমানে তুলনামূলক বেশি মধু উৎপাদন হচ্ছে না। মধু উৎপাদন না হওয়ায় চাহিদা মত মধু সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

মৌ চাষী আশরাফুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসেন মধু পাইকার ব্যাবসায়ীরা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মধু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় কাঙ্খিত দাম না পাওয়া যাচ্ছে না। মধু শিল্পের উন্নয়নের জন্য আর্থিক ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবিও জানিয়েছেন মৌ চাষিরা।

জেলার সংগ্রহ করা উন্নতমানের মধু পাকইকারী ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৌ চাষীরা। মধু উৎপাদন খামারে মধু ক্রয় করতে আসা আল-আমিন বলেন, প্রতি বছরই আমি মধু খামার থেকে ভেজালমুক্ত মধু সংগ্রহ করি। এবছর প্রায় ১০ কেজি মধু সংগ্রহ করব। এই মধু সারা বছর পরিবার নিয়ে ব্যবহার করে থাকি। খামার থেকে মধু ক্রয় করলে ভেজাল মুক্ত মধু পাওয়া যায়।

সিরজাগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মধু সংগ্রহে সারাদেশের মধ্যে প্রথম অবস্থান করতে এ বছর প্রায় ২০ হাজার মৌ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। তবে মধুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশংকায় মৌ চাষীরা।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুর হক জানান, সারা দেশের মধ্যে এ বছর জেলায় সর্বোচ্চ মধু উৎপাদন হওয়ার আশা করছি। চলতি বছর জেলায় ৫০ হাজার ৮’শ ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৩’শ হেক্টর বেশী। ফলে জেলায় এ বছর প্রায় ২’শ মেট্টিক টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধু সংগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর