ঢাকার সাভারে কর্তৃপক্ষের অপমান সহ্য করতে না পারায় ফাহিমা খাতুন (২৮) নামের এক পোশাক কর্মী কারখানার ৭তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানার ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কাজীপুর ফ্যাশন্স লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পোশাক কর্মী পাবনা জেলার সদর থানা এলাকার তারাবাড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। স্বামীর সাথে তিনি কলমা এলাকার জনৈক নুরুল হকের বাড়িতে থেকে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কাজীপুর ফ্যাশন্স লিমিটেড কারখানার ৬ষ্ঠ তলার ফিনিশিং শাখায় অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা যায়।
জানা যায়, গত ১৫ দিন আগে ফাহিমার প্রতিবন্ধী ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানা থেকে তিন দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হলে তার ডান হাতে ১৮টি সেলাই দেয়া হয়। এ অবস্থাতেই ছুটির নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে পৌছে অসুস্থতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন। পরে ফাহিমা কারখানায় হাজির হয়ে আবারও ছুটি চাওয়ায় কর্তৃপক্ষ গালিগালাজ করে তাকে কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেন। এরপর তিনি নিজের চিকিৎসা করিয়ে সোমবার পুনরায় কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগদানের অনুমতি চান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে কাজে যোগদানের অনুমতি না দিয়ে সকলের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে অপমান সইতে না পেরে তিনি ৭ তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
আরও জানা যায়, ঘটনাস্থলে ওই নারী শ্রমিক মারা গেলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন।
নিহতের স্বামী মিরাজুল ইসলাম জানান, দূর্ঘটনার খবর পেয়ে আমি কারখানায় ছুটে গিয়ে সেখানে তাকে না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ করি।
এব্যাপারে, কারখানার ব্যবস্থাপক মোঃ রেদওয়ানুল হক জানান, ফাহিমা কয়েকদিন ছুটিতে ছিলেন। আমাদের নিয়ম হলো মেডিকেল থেকে রিপোর্ট নিয়ে এসে কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু সে এটি না করে সরাসরি কাজে যোগ দিতে আসেন। পরে শুনতে পেরেছি সে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে আমরা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছি এবং তার মৃতদেহ সৎকার করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাসের জনি বলেন, নিহত পোশাক শ্রমিককে কারখানা কর্তৃপক্ষ গালিগালাজ করেছে বলে আমরাও শুনেছি। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি দূর্ঘটনা নয় বলে জানা গেছে, তাই এ বিষয়টি থানা পুলিশ দেখভাল করবেন।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এএফএম সায়েদ বলেন, পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। এঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।
বার্তা বাজার/এম.সি