জয়টা খুুব সহজে আসেনি। তবে ক্যালকুলেটিভ ব্যাটিংই করেছে ঢাকা প্লাটুন। যখন ঝুঁকি নেয়ার দরকার নিয়েছে, যখন দেখে খেলা দরকার সেভাবেই এগিয়েছে। ফলে শেষ হাসিটা হেসেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলই।
মেহেদী হাসানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেট আর ১ বল হাতে রেখে হারিয়েছে ঢাকা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ঢাকা। রবিউল ইসলাম রবির করা প্রথম ওভারের শেষ বলে শূন্যতে সাজঘরে ফেরেন এনামুল হক বিজয়।
তবে তিন নম্বরে নেমে তামিম ইকবালের সঙ্গে ৮৩ রানের জুটি গড়ে তুলেন মেহেদী হাসান, যে জুটিতে রীতিমত ঝড়ো ব্যাটিং করেছেন তিনি। ২৯ বলে মেহেদীর ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান, যে ইনিংসে ২টি চারের সঙ্গে ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
মেহেদী ফেরার পর দশম ওভারে এসে টানা দুই বলে আসিফ আলি (০) আর জাকের আলিকে (০) আউট করে ঢাকাকে কিছুটা বিপদে ফেলে দেন মুজিব উর রহমান। ৮৮ রানে ৪ উইকেট হারায় মাশরাফির দল।
তবে অভিজ্ঞ তামিম বুঝছিলেন, মেহেদী যে ইনিংস খেলে দিয়েছেন তারপর আর চড়াও হয়ে উইকেট বিলিয়ে লাভ নেই। দেখে খেললে জয়ের বন্দরে পৌঁছানো কঠিন হবে না। সেই চিন্তা থেকেই বোধ হয় নিজের সহজাত ব্যাটিং ছেড়ে দেখেশুনে এগোতে থাকেন তামিম। বাঁহাতি এই ওপেনার ৪০ বলে ৩৪ রান করে সৌম্য সরকারের শিকার হন ১৬তম ওভারে।
তারপরের কাজটা সেরেছেন মুমিনুল হক আর শহীদ আফ্রিদি। ২৬ বলে ৩৯ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকেই মাঠ ছেড়েছেন তারা। মুমিনুল ২৬ বলে ২৮ আর আফ্রিদি ১৬ বলে ১ চার আর ২ ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
কুমিল্লার মুজিব উর রহমান ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচায় নেন ২টি উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার রবিউল, আল আমিন আর সৌম্য সরকারের।
এর আগে ভানুকা রাজাপাকসের ৬৫ বলে ৯৬ রানের ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানের লড়াকু স্কোর গড়ে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। রাজাপাকসে ছাড়া ইয়াসির আলি ২৭ বলে করেন ৩০ রান।
টস জিতে শুরুতে কুমিল্লাকে ব্যাট করতে পাঠায় ঢাকা প্লাটুন। ব্যাট করতে নেমে রাজাপাকসে এবং সৌম্য সরকার ভালো সূচনা এনে দিতে পারেননি কুমিল্লাকে। ৬ বলে মাত্র ১০ রান করেই মেহেদী হাসানের বলে বোল্ড হয়ে যান সৌম্য সরকার। এরপর ব্যাট করতে নেমে ৭ বল খেলে ডাক মারেন সাব্বির রহমান।
ইংল্যান্ডের মারকুটে ব্যাটসম্যান ডেভিড মালান ১৭ বলে ৯ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর জুটি গড়েন ইয়াসির আলি এবং ভানুকা রাজাপাকসে। ১০৩ রানের জুটি গড়ে ওঠে এই দুই জনের ব্যাটে।
রাজাপাকসে ৬৫ বলে নিজের ইনিংস সাজান ৪টি বাউন্ডারি এবং ৭টি ছক্কার মারে। ঢাকার হয়ে ২টি উইকেট নেন মেহেদী হাসান এবং ১ উইকেট নেন শাদাব খান।
বার্তাবাজার/কেএ