সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ইস্যুতে উত্তাল ভারত। এই ইস্যুতে ফের মোদি সরকারের সমালোচনায় সরব হলেন ইত্তেহাদুল-মুসলিমিনের (এমআইএম) নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। হায়দরাবাদের এই সাংসদের দাবি, দেশভাগের সময় জিন্নার দ্বিজাতি তত্ত্ব প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় মুসলিমরা। অথচ, আমাদের স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও মর্যাদার লড়াই লড়তে হচ্ছে।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, শুধু মুসলিমরাই নন, সমস্ত দেশবাসীর ওপর এই আইনের প্রভাব পড়বে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় হায়দরাবাদে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এমআইএম)-এর সদর দপ্তরে বিশেষ বৈঠক ডেকেছিল ইউনাইডেট মুসলিম অ্যাকশন কমিটি।
ওই বৈঠকেই আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে কেন? এই মাটিতে জন্মেছি আমি। এই দেশেরই বাসিন্দা। তারপরেও ১০০ কোটি মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হবে। প্রমাণ দিতে হবে নাগরিকত্বের। এটা শুধুমাত্র মুসলিমদের সমস্যা নয়, বরং প্রত্যেক ভারতবাসীর সমস্যা।
এআইএমআইএম নেতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মোদিভক্তদের বলে রাখি, কাগজপত্র হাতে নিয়ে আপনাদেরও কিন্তু লাইনে দাঁড়াতে হবে।
দেশের সংবিধান রক্ষায় সিএএ এবং এনআরসি-এর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানাতে সকলকে বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতেও আর্জি জানান ওয়েইসি।
ওয়াইসি বলেন, দেশভাগের সময় মুসলিমরা পাকিস্তানকে বেছে নেয়নি। ভারতকেই বেছে নেয়। এখন বলা হচ্ছে, পৃথিবীতে আরও অনেক মুসলিম দেশ আছে, সেখানে চলে যান। কেন যাবো? আপনারা যান। আমরা ভারতবর্ষে জন্মেছি। আমরা ভারতের নাগরিক। আমরা এই দেশে জন্মেছি। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৭০ বছর পর আমাদের মর্যাদার লড়াই কেন লড়তে হবে?
প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে মুসলিম ও সংবিধানবিরোধী বলে অভিহিত করে আসছেন ওয়াইসি। আগামীদিনে আরও কঠিন লড়াই করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি