মহাকাশে আবর্জনা তৈরি করছে ভারত!

‘মহাশূন্যের বর্জ্য তৈরির জন্য ভারত একটি প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। ‌এসব আবর্জনা হলো পুরনো রকেটের অংশ অথবা ইন্টারগাইডেড স্যাটেলাইটের টুকরো টুকরো অংশ- যেহেতু পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।’

ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির সমালোচনা করে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ফাওয়াদ চৌধুরী এ মন্তব্য করেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে চাঁদে ভারতের একটি মহাকাশযান বিধ্বস্ত হওয়ার পর মহাকাশে সেগুলোর বর্জ্য নাসা খুঁজে পাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলেন।

তবে ফাওয়াদ চৌধুরীর দাবি কি তথ্যনির্ভর? আসলেই কি ভারত এখন মহাকাশে বিপজ্জনক বর্জ্য তৈরি করছে? বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানায়, পৃথিবীর কক্ষপথে যেসব আবর্জনা ঘুরছে, এসবের মধ্যে যেগুলোর আকার ১০ সেন্টিমিটারের বেশি, সেগুলো শনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস সার্ভেইল্যান্স নেটওয়ার্ক, বলছে নাসার অরবিটাল ডেব্রিস প্রোগ্রাম অফিস (ওডিপিও)। এসব জিনিস ভূপৃষ্ঠের ১২৫০ মাইলের ভেতরে ঘোরাফেরা করছে, যার সঙ্গে রয়েছে আরো দুই হাজারের বেশি কৃত্রিম উপগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন।

২০০৭ সালে নিজেদের একটি স্যাটেলাইটের ওপর চীন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। ধারণা করা হয় যে, তখন মহাকাশে প্রায় তিন হাজারের মতো বর্জ্য সৃষ্টি হয়েছে।

অরবিটাল ডেব্রিস প্রোগ্রাম অফিস (ওডিপিও) জানায়, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যোগাযোগ উপগ্রহের একটি দুর্ঘটনার ফলে বেশ বিশাল সংখ্যক বড় আকারের বর্জ্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরো জানায়, ভারত ছাড়াও অপর তিন দূষণকারী দেশ হচ্ছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন। এরা ভারতের তুলনায় এখনো অনেক কম মহাকাশ বর্জ্য সৃষ্টি করছে। তবে ভারতে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে এ ধরনের বর্জ্যর পরিমাণ বেড়েছে। এক বছরে ১১৭ মহাকাশ বর্জ্য থেকে বেড়ে ১৬৩ হয়েছে।

এদিকে এ বছরের মার্চ মাসে চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারত একটি অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল পরীক্ষা বা এএসএটি চালায়। ভারত বলছে, তারা এমন উচ্চতায় ওই পরীক্ষাটি চালিয়েছে, যা মহাকাশের কক্ষপথে কোনো আবর্জনা তৈরি করবে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, তিনমাস পরে ওই ঘটনার ফলে সৃষ্ট ৫০টি আবর্জনা খুঁজে পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিকিউর ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের মহাকাশ আইন পরামর্শদাতা ক্রিস্টোফার ডি জনসন বলছেন, মহাকাশের আবর্জনা সমস্যায় ভারতও বেশ অবদান রাখছে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর