যে সন্তানকে মা ১০ মাস গর্ভধারণের পর জন্ম দিয়ে লালনপালন করে বড় করেছেন আর বাবা সব কিছু উজাড় করে মানুষ করেছেন, সেই সন্তান মা-বাবাকে নির্যাতন করে বাড়ি ছাড়া করেছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী ছেলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন মা জাহানারা বেগম (৬০) ও বাবা মনির আহমদ (৭০)। তাঁদের অভিযুক্ত ছেলের নাম মো. সোলাইমান।
মনির আহমদ উপজেলার বরুমছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলেন, মো. সোলাইমান গত ১ ডিসেম্বর প্রবাস থেকে বাড়িতে আসেন। এর তিন দিন পর সন্ধ্যায় সোলাইমান মা-বাবাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম, গলাটিপে হত্যাচেষ্টা ও মানসিক নির্যাতন করেন। বসতভিটা ও জমি জোর করে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার চেষ্টা চালান এবং তাঁদের গৃহবন্দি করে রাখেন। কয়েক দিন পর তাঁরা দুজন প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে চট্টগ্রামের হালিশহর দরবার শরিফে যান। সেখানেই তাঁরা আশ্রয় নিয়ে আছেন।
মনির আহমদ আরো অভিযোগ করেন, মা-বাবাকে ছেলে সোলাইমান কয়েক দশক ধরে এ ধরনের নির্যাতন করে আসছেন। এর আগে কয়েক দফা সোলাইমানের মারধরের ঘটনা স্থানীয় লোকজন জোর করে আপস করে দিলেও সোলাইমান তাঁর দুই প্রবাসী ভাই মো. লোকমান ও মো. ওসমান এবং মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এ কথা বলার সময় মনির আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।
জাহানারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে আমি ও আমার স্বামী ছেলের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মনির আহমদের ছেলে ওসমানের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘আট বছর ধরে স্বামীর ঘরে দেবর সোলাইমানের বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। গত ১১ দিন আমাকে ও আমার ছেলে-মেয়েকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি, বন্দি করে রাখে।’
আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল জানান, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত সোলাইমানের মামা আহমদ হোসেন (৬৫)।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি