মোটরসাইকেলের আগুন নিভিয়ে এসেছে খানিকটা। তবে দাউ দাউ করে জ্বলছে দু’টি গাড়ি। উল্টো দিক থেকে তখনও ইটের টুকরো এসে পড়ছে রাস্তায়। সেফটি জ্যাকেট ও হেলমেট পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের হটাতে ফাটানো হচ্ছে কাঁদানে গ্যাসের সেল। তার মধ্যেই বন্দুকের ‘সেফটি ক্যাচ’ খুলে সামনের দিকে ছুটে গেলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
পেছন থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে থেকে তখন উড়ে আসছে, ‘মেরে ফেল সবগুলোকে।’ এই কথা কানে যেতেই ট্রিগারে চাপ দিলেন তিনি।
ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি) নিয়ে বিক্ষোভে মধ্যে একদিকে গুলি চালানোর কথা যখন উড়িয়ে দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, ঠিক সেইসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশের এমন রণমূর্তি ধরা পড়েছে।
শনিবার উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বিক্ষোভ চলাকালীন ওই ভিডিওটি তোলা হয়। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভিডিও। এ ঘটনার জেরে যোগী আদিত্যনাথের এই রাজ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সিএএ এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি) নিয়ে গত তিনদিন ধরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে উত্তরপ্রদেশ। ভারতের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই রাজ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।পুলিশের গুলিতেই ওই ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
যদিও তা অস্বীকার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বিক্ষোভকারীরাই বন্দুক হাতে মিছিলে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
রাজ্যপুলিশের মহাপরিদর্শক পি সিংহ বলেন, ‘সবক’টি মৃত্যুই গুলি-বিনিময়ের মধ্যে পড়ে হয়েছে। ময়নাতদন্ত হলে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের গুলিতে কেউ মারা গেলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করিয়ে ব্যবস্থা নিতাম।’ রাজ্যে বিক্ষোভের এলাকা থেকে ৪০৫টি কার্তুজের খোসা মিলেছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) প্রবীণ কুমার। আনন্দ বাজার।
ভিডিও….
WATCH: A video that nails the claims of UP Police that it never fired a single bullet! The video is of yesterday from Kanpur. pic.twitter.com/O4RazguIM2
— Prashant Kumar (@scribe_prashant) December 22, 2019
বার্তাবাজার/এমকে