পরীক্ষা জয় করেছেন আগেই। অপেক্ষা ছিল ফিফার স্বীকৃতির। অপেক্ষা ছিল একটা সুখবরের। জয়া চাকমার কাছে শেষ পর্যন্ত এলো সেই আনুষ্ঠানিক সুখবর। প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ফিফা স্বীকৃত রেফারি লিস্টে নাম উঠালেন তিনি। সে সঙ্গে এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জাতীয় দলের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাবেন রাঙামাটির এই মেয়ে।
ছিলেন ফুটবলার, হয়ে গেলেন রেফারি। এমন পরিবর্তনের পেছনে জয়ার শ্রমটা কম ছিল না। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার এবং কোচিংয়ের পাশাপাশি লম্বা একটা সময় ধরে তিনি রেফারিংয়ে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক ধাপে নিজেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন অনেকবার। তবে জয়ার খেলা পরিচালনা শুরু ২০১০ সালে।
লেভেল ৩, ২ ও ১ কোর্স করে দেশের ফুটবলে তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন টুর্নামেন্টেও দায়িত্ব পালন করেছেন এতদিন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫টির মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে জয়ার ঝুলিতে।
ফিফার রেফারি হওয়ার জন্য এবারের আগেও দু’বার পরীক্ষা দিতে হয়েছে জয়াকে। কিন্তু সফলতা দেখেননি। তার পরও থেমে না গিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান। তৃতীয় চেষ্টায় ধরা দিল সফলতা, এলো স্বস্তির খবর। সে জন্য অবশ্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিফার নিয়মানুযায়ী নানামুখী পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে জয়াকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার হাজার মিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফিটনেস প্রমাণও করতে হয়।
এএফসির ‘বি’ লাইসেন্সধারী কোচও এই জয়া। গত বছর তার অধীনে খেলে ভারতে সুব্রত মুখার্জি কাপ জিতেছিল বিকেএসপির মেয়েরা। এবার যেন নিজেকে আরও ছাড়িয়ে গেলেন। বাংলাদেশ থেকে ফিফা রেফারি পরীক্ষায় পাস করে স্থাপন করলেন নয়া দৃষ্টান্ত। জয়ার সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছিলেন সালমা আক্তারও। তবে তাকে অপেক্ষার করতে হচ্ছে আরও।
বার্তাবাজার /এইচ.আর