কাউন্সিলকে ঘিরে জাতীয় পার্টিতে (জাপা) আবারও সংকটের আভাস প্রসঙ্গে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, দলের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রয়োজনে ভোটাভুটি হবে। সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি আছে। কারণ নেতৃত্বে আসার ক্ষেত্রে চাকচিক্যের চেয়ে দলের প্রতি আন্তরিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জাপা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। পার্টির প্রতিটি নেতা-কর্মী জাপার মালিক।
শনিবার রাজধানীর বনানীতে জাপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে তিনি একথা করেন।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাপার কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। দলের নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের প্রশ্নে কাউন্সিলকে ঘিরে দলটিতে আবারও বিবাদের কথা শোনা যাচ্ছে। দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যান ও জিএম কাদেরকে নির্বাহী চেয়ারম্যান করার ফর্মুলা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন দলটির একাংশ।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, বিষয়টি ইঙ্গিত করে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে জিএম কাদের বলেন, এখানে ভয়ের কিছু নেই, কারো কাছে মাথা নত করারও কিছু নেই। কাউন্সিলে দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন কাউন্সিলররা। আমার শক্তি দলের নেতা-কর্মীরা, তারাই তাদের নেতা নির্বাচন করবেন। নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে নিতে হবে।
দুই বছরের পরিবর্তে তিন বছর পরপর দলের কাউন্সিল করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এব্যাপারে জাপা চেয়ারম্যান বলেছেন, অন্য দলগুলোর গঠনতন্ত্র বিশ্লেষণ করে বিষয়টি আমরা বিবেচনা করে দেখব। কারণ কাউন্সিল হলে অনেক সময় গোলমাল সৃষ্টি হয়। দলে যারা টাকা দিয়ে রাজনীতি করতে চান, তাদের উদ্দেশে জিএম কাদের বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় রাজনীতি একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আমরা এই ধারার বাইরে রাজনীতি করবো। যারা টাকা লগ্নি করে, ব্যবসায়ী মনোবৃত্তি থেকে আবার সেই টাকা উত্তোলনের জন্য রাজনীতি করতে চান, জাপায় তাদের স্থান হবে না। জাপা হবে জনগণের দল। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করবেন, অন্যরা কর্মী নন, যেন কর্মচারী। আমি টাকা দেবো, অন্যরা আমার কর্মচারী। এ ধারা থেকে দলকে বের করে আনতে চাই।
২৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিলের বিষয়ে দলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি যদি পয়সা দিয়ে আপনাদের আনি, তাহলে আপনাদের কণ্ঠ শোনার কোনও প্রয়োজন নেই। আর আপনি যদি পার্টি করেন, তাহলে নিজের গরজেই আসবেন। পার্টির পদ পরিচয় দিয়ে কিছু না কিছু মর্যাদা পান। আপনাদের এ পদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে অনেকে শ্রম দিয়ে গেছেন।
সভায় উপস্থিত থাকা সাদ এরশাদের বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, সাদ আজ প্রথম আমাদের সঙ্গে ফোরামের বৈঠকে বসেছেন। দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে রাজনীতিতে অনেক অবদান রাখার সুযোগ দেন।
বৈঠকে জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, যারা এ মিটিংয়ে থাকবেন না, তারা যত বড় ক্ষমতাধরই হোক, ভবিষ্যতে কমিটিতে তাদের জায়গা হবে না। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এস.এম. ফয়সল চিশতী, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রমুখ।
বার্তাবাজার /এইচ.আর