‘সম্রাট ভাই কি জেল থাইক্যা ছাড়া পাইবো? ওই দেখ ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পোস্টার।’
শনিবার দুপুরে রাজধানীর হাইকোর্টের অদূরে শিক্ষা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে এক তরুণ আরেক তরুণকে সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের মুক্তির দাবিতে দেয়ালে সাঁটানো পোস্টার দেখিয়ে এ কথা বলছিলেন।
জবাবে আরেক তরুণ বলেন, ‘আওয়ামী লীগে সম্রাট ভাইয়ের অবদান কম নাকি? নেত্রীও তাকে ভালো করে চেনেন। নিশ্চয়ই ভাই শিগগিরই ছাড়া পাবেন।’
পশুর চামড়া রাখার দায়ে ছয় মাসের সাজাপ্রাপ্ত ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট বর্তমানে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।
একটি পোস্টারে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও জয়ের ছবি এবং নিচে সম্রাটের হাস্যোজ্জ্বল ছবি শোভা পাচ্ছে। পোস্টারের ওপরের দিকে লেখা রয়েছে, ‘দুর্দিনের সম্রাট ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই।’ নিচে লেখা রয়েছে, ‘ঢাকা তৃণমূলের যুব সমাজ।’
আরেকটি পোস্টারে বঙ্গবন্ধু, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এবং নিচে সম্রাটের ছবি রয়েছে।
এ পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘ঢাকার রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দুঃসময়ের কর্মী যুবলীগের ইসমাইল হোসেন সম্রাটের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’ পোস্টারের একেবারে নিচে লেখা রয়েছে, ‘জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া; আহ্বায়ক, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট মুক্তি পরিষদ।’
উল্লেখ্য, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসে। এর পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।
গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে গ্রেফতার করে র্যাব।
ওইদিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে সম্রাটের কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস