তীব্র শীতের প্রভাবে বিপাকে পটুয়াখালীর সাধারণ মানুষ

দক্ষিনাঞ্চলের উপকুলীয় জেলা পটুয়াখালীতে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। পটুয়াখালী জেলা শহরের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে শীতের তীব্রতায় সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ। সেই সাথে শহরের অভ্যান্তরে প্রধান সড়কে কুয়াশার প্রভাবে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এ অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষের জীবন যাপন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে সারাদিনই আকাশ মেঘলাসহ রোদের মুখ দেখা যায়নি। দিনের শুরুতে রোদ না ওঠা ও শৈত্যপ্রবাহে কাজে বের হতে পারছে না দিনমজুরা। শৈত্যপ্রবাহ’র সাথে হিমেল হাওয়ায় চলতি মওসুমের সর্বোচ্চ শীত অনুভূত হচ্ছে পটুয়াখালী শহরে।

শীতার্থ মানুষরা তাদের আয়ের কিছু অংশ দিয়ে হলেও শীত বস্ত্র ক্রয়ের জন্য ভিড় করছে কাপড়ের দোকানগুলোতে। প্রচন্ড শীতে পটুয়াখালী জেলার নি¤œ আয়ের সাধারন মানুষ রয়েছে চরম বিপাকে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ। শীতের কারণে কাজে যেতে পারছে না শ্রমজীবী রিকশা চালক, দিন মজুর ও কৃষক। প্রচন্ড ঠান্ডার কারনে রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা কম দেখা গেছে।
দিনমজুর জামাল উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ভ্যান গাড়ী নিয়ে কাজে বের হন। কিন্তু গত ২ দিন ধরে সকালে কাজে যেতে পারছেন না। তবে শীতের তীব্রতা কমলে সকালে রোজকার মতো কাজে বের হবেন বলে জানান তিনি। রিকশা চালক বারেক বলেন, “পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ আসলে খ্যাপ (গ্রাহক) নেই আমি, কিন্তু কয়েকদিন যাবত সকালে কুয়াশায় জন্য আশপাশের কিছু দেখা যায় না। তাই আমি সকালে রোদ না উঠলে রিকশা নিয়া বাইর হই না”।

এছাড়াও এ বছর শীতবস্ত্রের চড়ামূল্য হওয়ায় অধিকাংশ ক্রেতারা পটুয়াখালীর শিশু পার্ক, কোর্ট চত্বর, সদর রোডের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। হাড় কাপানো শীতে বিশেষ কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। পৌষের শুরুতেই হিমেল হাওয়ায় মানুষ কাহিল হয়ে পড়েছে। এদিকে ভোরে কুয়াশার ভেতর একটু উষ্ণতা পেতে খড়কুঁটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। শুক্রবার ও শনিবার জৈন কাঠী, বাধঘাট সহ বিভিন্নস্থানে আগুন ধরিয়ে অনেককে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। গত তিন দিনে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা কমছে।

পটুয়াখালী আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুসারে, শনিবার পর্যন্ত জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, এ তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় হলেও হ্রাস পাচ্ছে রাতের তাপমাত্রা। শীতল বাতাস বাড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের ভোগান্তি। এদিকে শীত বাড়ার কারণে দেখা দিতে শুরু করেছে নিউমোনিয়াসহ শীতের ঠান্ডাজনিত রোগ। পটুয়াখালী সদর হাসাপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জ্বর ও নিউমোনিয়া জনিত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে শীতের তিব্রতা বুদ্ধি পেলেও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে শীতবস্ত্র বিতরন কার্যক্রম এখন পর্যন্ত লক্ষ করা যায়নি।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর