দিনাজপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম সুন্দরায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে থানায় মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর মা। ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
ধর্ষণের অভিযোগে দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় ওই ছাত্রীর মা গত ১৮ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করলে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে ২ ধর্ষককে সদর উপজেলার সুন্দরা গ্রাম থেকে আটক করে র্যাব-১৩। আটকের পর র্যাব-১৩ অভিযুক্তদের কোতয়ালি থানায় প্রেরণ করে।
আটককৃতরা হলো, সদর উপজেলার সুন্দরা ঝুলকাপাড়া গ্রামের লাল মোহাম্মদ এর ছেলে মো. মোকছেদুল ইসলাম টুকলু (৩১) এবং সন্দুরা স্কুলপাড়া এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মাসুদ রানা (২৪)।
কোতয়ালি থানা সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরা আদর্শ স্কুলে অনুষ্ঠিত গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিল ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। রাত সাড়ে ৯টায় মঙ্গলার বাজার এলাকায় জনৈক আলতাফ হোসেনের দোকানের কাছাকাছি পাকা রাস্তায় পৌঁছালে ৩ জন ব্যক্তি তাকে জোরপুর্বক ৩০০ গজ দূরে পাথারিয়া পুকুর পাড়ে ধরে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে ওই স্কুল ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষকরা তাকে মৃত ভেবে পুকুরে নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর মা ১৮ ডিসেম্বর কোতয়ালি থানায় মো. মোকছেদুল ইসলাম টুকলুসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুই জনের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) এর ধারায় মামলা করেন। যার মামলা নং ৫০।
গত শুক্রবার রাতে র্যাব-১৩ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মোকছেদুল ইসলাম ও মাসুদ রানাকে আটক করে। অপর আরেকজন আসামি পালিয়ে আছে বলে জানান কোতয়ালি থানা পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার রাতে ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারের সাথে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা করতে যান দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম। এ সময় তিনি ধর্ষকদের দ্রুত আটক করার বিষয়ে আশস্থ করেন মেয়েটির পরিবারকে।
এবিষয়ে ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটির বাবা বলেন, ‘জেলা প্রশাসক স্যার আামাদের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার কথা বলেছেন। জেলা প্রশাসক স্যার আসামিদের আটকের বিষয়েও আশস্থ করেন। জেলা প্রশাসকের আশস্থের পরই আমরা খবর পাই দুজন ধর্ষণকারীকে আটক করা হয়েছে। আমরা ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’
ধর্ষকদের আটকের বিষয়ে কোতয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা বজলুর রশিদ বলেন, ‘দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার রাতে দুইজন আসামিকে আটক হয়েছে। অপর আরেকজন আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে। আটককৃত মাসুদ রানা ধর্ষণের কথা শিকার করেছেন। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ‘আমরা কোন অপরাধীকেই ছাড় দিব না। স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আর যাতে কোন মেয়েকে কেউ ধর্ষণ করার সাহস না পায় সেজন্য তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও আমরা করব।’
বার্তা বাজার/এম.সি