সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের গৌরবময় অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ে উপমহাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ।
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ। সকাল সাড়ে ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন।
এই কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। শুক্রবার আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে সম্মেলনের প্রথম দিনের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
আজ সারা দেশ থেকে সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলরদের দেয়া দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনা কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে নেতাদের নাম ও পরে পুরো কমিটি পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করবেন।
দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অপর দুই সদস্য হলেন দলের উপদেষ্টা ড. সাইদুর রহমান ও ড. মশিউর রহমান। নির্বাচন কমিশন প্রথমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী আহ্বান করবেন। একাধিক প্রার্থী না থাকলে প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে শীর্ষ দুই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এরপর কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
টানা ৯ম বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ৩৮ বছর ধরে দলটির নেতৃত্বদানকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এটা নিশ্চিত। তবে সবারই দৃষ্টি সাধারণ সম্পাদক পদটির দিকে। কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? ওবায়দুল কাদেরই বহাল থাকছেন, নাকি চমক দেয়ার মতো অন্য কেউ—এ নিয়ে দলটিতে গুঞ্জন-আলোচনা এখন তুঙ্গে।
এদিকে কোনো পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে এবং ভোটের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ব্যালট পেপারও সংগ্রহ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী একাধিক নেতা জানান, সাধারণত কাউন্সিলররা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ওপর অর্পণ করেন। এক্ষেত্রে সাধারণত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয় এবং কাউন্সিলররা তা একবাক্যে সমর্থন করেন। সভাপতির ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেন কাউন্সিলররা। এবারও একই পদ্ধতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, এবার সম্মেলনে গঠনতন্ত্রে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে আকার বাড়ছে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের। ৪১ সদস্য থেকে বাড়িয়ে ৫১ করা হচ্ছে। বিলুপ্ত করা হচ্ছে দলের সহসম্পাদক পদ। একইভাবে মত্স্যজীবী লীগকে দলের সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হতে পারে। এদিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অর্জনগুলো ঘোষণাপত্রে যুক্ত করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে নতুন সংযোজন- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি