চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটার ৩১২টি-ই অবৈধ। বাকি ৯৬টি জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হলেও সেগুলোতে চলছে রাজস্ব ফাঁকির মহোৎসব। অপরদিকে পরিবেশ অধিদফতরের হিসেবে চট্টগ্রামে ইটভাটার সংখ্যা ৪০৫টি। এর মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়েছে মাত্র ৫০টি।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেছেন, ‘একটি ইটভাটা নির্মাণের আগে পরিবেশ অধিদফতর, জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই ও স্থানীয় ভূমি অফিসসহ আরও কয়েকটি সংস্থার ছাড়পত্র প্রয়োজন। সবগুলো ছাড়পত্র না পেলে ইটভাটা তৈরির সুযোগ নেই। এরপরও অসাধু কিছু ব্যক্তি নিয়মনীতি না মেনে ইটভাটা তৈরি করছে। এসব অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে তথ্য পেলে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা আছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়। এখানে জেলা প্রশাসনের হিসাবে ইটভাটা ১০৯টি এবং পরিবেশ অধিদফতরের হিসাবে ৯৬টি। তবে রাঙ্গুনিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা বলছেন, এ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ইটভাটা আছে ১৫০টি। শুধু রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর এবং ইসলামপুর ইউনিয়নে ইটভাটা আছে ১১৩টি। বাকি ইটভাটাগুলো উপজেলার কোদালা, সরফভাটা, হোসনাবাদসহ কয়েকটি ইউনিয়নে।
রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কাঠ। শত শত একর ফসলি জমি ও পাহাড় কেটে এসব ইটভাটা গড়ে উঠলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যেগ নেই প্রশাসনের। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতি বছরই ইটভাটা বাড়ছে। পাহাড় কেটেও ইটভাটা তৈরি করা হচ্ছে। অপরদিকে রাঙ্গুনিয়ার পার্শ্ববর্তী রাউজানে জেলা প্রশাসনের তালিকায় ইটভাটার সংখ্যা ৩৬টি। শুধু এ উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ও হলদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় ইটভাটা আছে ৬০টির বেশি। তবে পুরো উপজেলায় ইটভাটা আছে ৮০টির বেশি। এর অধিকাংশই গড়ে উঠেছে ফসলি জমি, পাহাড়ের পাদদেশ এবং লোকালয়ে।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের হিসাবে ফটিকছড়িতে ৪৪টি, সাতকানিয়ায় ৩৮টি, হাটহাজারীতে ৩৯টি, চন্দনাইশে ৩১টি, লোহাগাড়ায় ১৫টি, আনোয়ারায় দুটি, বাঁশখালীতে ২টি, সন্দ্বীপে ৪টি, মিরসরাইয়ে ৮টি, সীতাকুণ্ডে ২টি, বোয়ালখালীতে ৭টি ও পটিয়ায় ৩টি ইটভাটা ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে ৪০৫টি ইটভাটার মধ্যে ছাড়পত্র আছে ২৬২টিতে। ৩৫৫টি ইটভাটার পরিবেশসংক্রান্ত লাইসেন্স হালনাগাদ করেনি। ১৪৩টি ইটভাটার লাইসেন্সই নেই। পরিবেশ আইন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তি জিগজ্যাগ চিমনি রয়েছে ১১৯টি ইটভাটার। উন্নতমানের অত্যাধুনিক হাইব্রিড হফম্যান কিলনধারী ভাটা রয়েছে মাত্র একটি ও অটো টানেল কিলন ভাটা রয়েছে দুটি।
রাউজান উপজেলার হলদিয়া এলাকার নুরুল আলম নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘রাউজানে প্রতি বছরই ইটভাটা বাড়ছে। বিশেষ করে হলদিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকাকে টার্গেট করে ইটভাটা তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে এখানকার গাছপালা মরে যাচ্ছে। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এখানকার লোকজন। তবে যারা এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করবে তারাই ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে উৎকোচ নিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের গবেষণাগার কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের জন্য ৭০ থেকে ৭৫ ভাগই দায়ী ইটভাটা। ইটভাটার ড্রাম চিমনি থেকে সবচেয়ে বেশি কালো ধোঁয়া বের হয়। এছাড়া ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ।’
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস