নতুন চমক থাকতে পারে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে!

দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হয়েছে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর)। দলটির আগামী দিনের নেতৃত্বে কারা আসছেন তা নির্ধারণ হবে আজ। নতুন নেতৃত্বে কে তা নিয়ে তা নিয়ে উম্মুখ নেতাকর্মীরা। দেশবাসীরও দৃষ্টি সম্মেলনের দিকে। আজ সকাল থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শুরু হবে কাউন্সিল অধিবেশন। ৩৮ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা শেখ হাসিনা যে আবার দলে সভাপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন এটা নিশ্চিত। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। এ পদে কে আসছেন তা শেষ মুহুর্তেও স্পষ্ট হয়নি।

এমনকি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাও কাউকে কোন ইঙ্গিত দেননি। তাই সবাই তার দিকে তাকিয়ে। সূত্র জানিয়েছে, এ পদে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য একজনকে বসাতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এজন্য আগে থেকেই কাউকে কোন ইঙ্গিত দেননি। সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এ পদের জন্য নেতারা নানাভাবে আগ্রহ প্রকাশ করলেও দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গে সরাসরি এ বিষয়ে যোগাযোগের সুযোগ পাননি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারও কয়েকজন দলীয় সভাপতির সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে তারা সাক্ষাৎ পাননি।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সব বিবেচনায় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এগিয়ে আছেন। তবে যেহেতু দলীয় সভানেত্রী শেষ মুহুর্তেও কোন বার্তা দেননি তাই বিকল্প নিয়েও তারা ভাবছেন। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজনের নাম আছে আলোচনায়। আগের কাউন্সিল থেকেই বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের নাম আলোচনা। আলোচনায় আছে সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ এর নাম। বিদায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শ ম রেজাউল করিমের নামও এসেছে আলোচনায়। এ পদে শেষ মুহর্তে চমক আসতে পারে এমনটাও ধরে রেখেছেন নেতাকর্মীরা। এদিকে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদই নয় প্রেসিডিয়াম, সম্পাদকমন্ডলীসহ অন্যান্য পদেও চমক দেখাতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

বাস্তবতার চাহিদার আলোকে তরুণ ও মেধাবী নেতাদের যুক্ত করা হবে এসব পদে। দলীয় সূত্র জানায়, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সারা দেশে একটি বার্তা পৌঁছে দেবেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন এর প্রতিফলন থাকবে নতুন কমিটিতে। দলীয় সূত্র জানায় আজ কাউন্সিল অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে শেখ হাসিনাকেই আরেকবার সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকসহ পুরো কমিটি গঠনের দায়িত্বভার তুলে দেয়া হবে শেখ হাসিনার হাতে। সাংগঠনিক কার্যক্রমের অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে বিকালে সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হতে সময় লাগতে পারে আরও দু’ এক দিন। কাউন্সিল অধিবেশনে সাত হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। কাউন্সিলররা দলের সংশোধিত গঠনতন্ত্র এবং ঘোষণাপত্র অনুমোদন দেবেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪শে জুন পুরনো ঢাকার কেএম দাস লেনের বশির-এর রোজ গার্ডেনের বাসভবনে একটি রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলিম লীগের প্রগতিশীল নেতাকর্মীরা সংগঠন থেকে বেরিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। প্রথম সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রথম কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক। ১৯৬৬ সালের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির একচ্ছত্র নেতা,স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বে দ্বিধা-বিভক্ত আওয়ামী লীগ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়। তিন দশক ধরে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পরিচালিত হচ্ছে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর