ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী সুমনা হকের (৯) হত্যার বিচারের দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জেলার বড় মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীররা সুমনা হকের হত্যাকারী রিয়াজ আহম্মেদ কাননের (১৩) দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানায়। এ ধরণের নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কেহ যেন ছাড় না পায়। সকলকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে জেলা শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার রিয়াজ আহম্মেদ কাননের বসতঘরের মাটি খুঁড়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমনা হকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সুমনা হক গোয়ালপাড়া এলাকার জুয়েলের মেয়ে। সে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী হিসেবে চতুর্থ শ্রেণিতে উঠার জন্য বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছিল। রিয়াজ আহম্মেদ কানন একই এলাকার
ইয়াসিন হাবীব কাননের ছেলে। সে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, স্কুলছাত্রী গত ১৬ ডিসেম্বর নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রী সুমনার বাবা থানায় একটি জিডি করেন।
মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুমনা কাননের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যেত। ওইদিন দুপুরে সুমনা পরিক্ষায় কম নম্বর পেয়েছে মর্মে খাতা দেখতে আসতে বলে। খাতা দেখতে এসে নিখোঁজ হয় সে।
এরপর থেকে ইয়াসিন আলি ও তার ছেলে কাননের ওপর নজরদারি শুরু হয়। ঘটনা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রিয়াজের বাবা রিয়াজকে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি সে স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যমতে তার বসতঘরের মাটি খুঁড়ে সুমনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বার্তাবাজার /এইচ.আর