দু’দিকে দুটি উপজেলার দুটি গ্রামের মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে দূরত্ব কেবল একটি নদী। দুই এলাকার মানুষের দূরত্ব নিরসে স্থাপিত হয় একটি পাকা সেতুর। এতে দুই এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু সেতুর অবস্থা বেহাল হয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। খসে পড়ছে কনক্রিট। সেতুর র্যালিং ও পাটাতন খসে খসে পড়ছে। ওই অবস্থার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। এমন অবস্থা ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ ও গৌরীপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি সেতুর।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়ন ও গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মধ্যে দূরত্ব কেবল কাঁচামাটিয়া নদী। তারুন্দিয়া ইউনিয়নের সরতাজবহেরা, সাখুয়া এলাকার মানুষের সাথে গৌরীপুরের ভাংনামারী ইউনিয়নের ভোলারচর, কাশিয়ারচর, চরভাবখালি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য নওভাঙা বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেতুটি নির্মিত হয়। ১৯৯৬ আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য কাঁচামাটিয়া নদীর ওপর বেশ কিছু সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ওই সময় প্রকল্প নেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিএনপি সরকার আমলে সেতুটি নির্মিত হয়। প্রায় ৭৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছিল প্রায় ২৫ লাখ টাকা। সেতুটি নির্মাণের আগে দুই এলাকার মানুষ নদী পারারপার হতে বাঁশের সাঁকো ও নৌকা ব্যবহার করতো। এতে দুই এলাকার মানুষ তাদের উৎপাদিত সবজি ও অন্যান্য জিনিস বাজারজাত করতে পারতো না। নাওভাঙা সেতু হিসেবে পরিচিত সেতুটি নির্মিত হওয়ায় দুই এলাকার মানুষ সুফল ভোগ করে।

দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী সেতুটিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সেতুটির র্যালিংয়ের কনক্রিট খসে রড বেরিয়ে গেছে। র্যালিং ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে কোথাও কোথাও। পাটাতনের কনক্রিটও খসে যাচ্ছে। সেতুটি নির্মাণে নিম্ম মানের সামগ্রীর ব্যবহার হওয়ায় এমন দূরবস্থা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
ভাংনামারী ইউনিয়নের নাওভাঙা বাজারের পাশে সেতুটি দাঁড়িয়ে কথা হয় আবদুছ ছাত্তার বেপারীর সাথে। তিনি বলেন, সেতুটি প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে নির্মিত হয়েছে। আগে অনেক কষ্টে চলাচল করতে হতো। নদী পার হয়ে কোনাপাড়া, সরতাজবহেরা, সাখুয়া বাজারে নিজের সবজি নিয়ে বেচাকেনা করতেন। কিন্তু সেতু হওয়ার পর তাদের সুবিধা হয়। তিনি আরো বলেন, কাজটা করা হয়েছে নরমাল। ভেঙে যাচ্ছে কিন্তু কেউ ঠিকঠাক করছে না। সেতুটির ভগ্নদশা দূর করার দাবি জানিয়েছেণ একই গ্রামের রবিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এমন দূরবস্থা কোনো সেতুর থাকতে পারে না। সব সময় ঝুঁকি নিয়ে যানচলাচল করে।

তারুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল হালিম জানান, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সরকার আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. আবদুছ ছাত্তারের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকার পরিবর্তণ হওয়ার পর ২০০১ পরবর্তী সময়ে সেতুটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। সেতুটি নির্মাণের ফলে দুই উপজেলার দুই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে যোগাযোগে আমূল পরিবর্তণ ঘটে। কিন্তু বর্তমানে সেতুটির অবস্থা বেশ নাজুক। এটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ জানান, সেতু গুলোকে লো-কস্ট সেতু বলা হয়। গ্রামীণ যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য সেতু গুলো নির্মিত হয়েছিল। বেশির ভাগ সেতু গুলোরই এমন অবস্থা। ওই সড়কটি পাকা করণের সময় নতুন করে সেতু নির্মাণ করা হবে।
বার্তাবাজার /এইচ.আর