“উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার আয়োজনে প্রজাপতি মেলা-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
প্রতি বছরের ন্যায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে এবারও প্রজাপতি মেলার সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো- আইইউসিএন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, কিউট, বন অধিদপ্তর, বিপিআরসি, মেন্টর ও ন্যাচার কনজারভেটিভ ইনিশিয়েটিভ। এইবার নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ দশম বারের মতো এ মেলার আয়োজন করলো।
প্রজাপতি মেলার আহ্বায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রজাপতিকে চিনলে প্রজাপতিকে সংরক্ষণ করলে প্রকৃতি টিকে থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের যে সমস্যাগুলো আছে তার মোকাবিলা করা যাবে।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে যে ১১০ প্রজাতির প্রজাপতি ছিলো তা দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই এসব প্রজাপতিকে সংরক্ষণের জন্য আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহকে উপেক্ষা করে সাভার এবং আশেপাশের এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীদের প্রানবন্ত উপস্থিতি মেলাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে মেলা শুরু না হলেও এর জৌলুস একটুও কমে নাই। এব্যাপারে অধ্যাপক ড. মোঃ মনোয়ার হোসেন বার্তা বাজারকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির জন্যে এবারের প্রজাপতি মেলা দেরিতে করতে হচ্ছে। প্রজাপতি শীতের চেয়ে গরম বেশি পছন্দ করে। তাই গরম কালে এদের বেশি উড়াউড়ি করতে দেখা যায়। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে প্রজাপতি মেলার আয়োজন করা আমাদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। এই তীব্র শীতে প্রজাপতি উড়বে কিনা এটা নিয়েও আমরা কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। তবুও আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
এ আয়োজনে এবার প্রজাপতি বিষয়ক গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ এম.এ. বাশার কে “বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০১৯” ও সবুজবাগ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অরুণাভ ব্রুণো’কে “বাটারফ্লাই ইয়াং এনথুসিয়াস্ট” অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
নানা রংয়ের বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে দিয়ে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের রাস্তা প্রদক্ষিণ করে আবার মেলাস্থলে এসে শেষ হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলায় শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজন সম্পন্ন হয়। এছাড়াও ছিলো প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক “প্রজাপতি চেনা ” প্রতিযোগিতা। এই ইভেন্টে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি করে দল অংশগ্রহণ করেছে যেখানে প্রতিটি দলে দু’জন ছাত্র-ছাত্রী ছিলো।
উল্লেখ্য, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের উদ্বোধন করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি আসেননি।
প্রসঙ্গত আরও উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি সংরক্ষণ এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত হয়ে আসছে প্রজাপতি মেলা।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি