নিলাম কর্তাদের ম্যনেজকরে বিপুল পরিমান কাঠ নিল সিন্ডিকেট চক্র

ঘাটাইলে নিলামের নামে সিন্ডিকেট করে দামি সেগুন কাঠ অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে বন কর্তাদের বিরুদ্ধে। নিলাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে অসাধূ কাঠব্যবসায়িরা কৌশলে লাখ লাখ টাকার সেগুন কাঠ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

নিলামে অংশনেয়াদের কাছে জানা গেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর (বুধবার) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের সাগরদীঘি বিট অফিসের আওতাধীন ঝড়ে পড়া সেগুন কাঠ প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

নিলাম অনুষ্ঠানে অসৎ উদ্যেশ্য হাসিলের জন্য কৌশলে নিলাম দ্রব্যের (সেগুন কাঠ) সরকারি মূল্য বেশী ধরা হয়েছে মর্মে ব্যবসায়িরা জানালে ওই দিনের জন্য নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে পরবর্তিতে পুন: নিলাম দেয়া হবে বলে ঘোষনা দেন নিলাম কর্মকর্তা। ফলে নিলামে অংশ নেয়া অনেকেই চলে যান।

পরে অসাধু কাঠ ব্যবসায়িরা নিলাম কর্মকর্তা সহকারি বন কর্মকর্তার (এসিএফ) সাথে যোগাযোগ করলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবার নিলাম কার্যক্রম শুরু করেন। নিয়ম অনুযায়ি নিলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যাক্তিরা দরদামে প্রতিযোগিতা করবে।

এতে যিনি বেশী দর ডাক দিবেন তাকেই লট দিয়ে দিবেন। কিন্তু বনবিভাগের চিহ্নিত কাঠ ব্যবসায়ি ও কাঠচোর ছাড়া অন্য কেউ নিলামে ডাক দিলে তাদের কথা আমলে নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। অসৎ ব্যবসায়ি ও কাঠচোরদেরকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

এতেকরে নিলামে অংশ নেয়া অন্যন্যদের মাঝে চরম ক্ষোভ হয়। অনেকে নিলাম কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। কিন্তু মোস্তফা নামে জনৈক অসাধু কাঠচোর ও ব্যবসায়ি ও তার সহযোগিরা নিলাম কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নিলামে অংশনেয়া অন্যান্য ব্যাক্তিদেরকে জিম্মিকরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিলামের নামে সাকুল্যকাঠ নিযে নেন। এতে করে কাউকে প্রতিযোগিতা করতে না দেয়ায় সরকারের বিপুল অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে নিলামকর্মকর্তা ও সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জামাল হোসেন তালুকদার বলেন, প্রাথমিকভাবে সিন্ডিকেট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে আর করতে পারে নাই। আমি সরকারি মূল্যেই বিক্রি করেছি। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থার দাবি জানান উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। এদিকে নিলাম অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া একাধিক ব্যাক্তি পুন: নিলাম দেয়ার দাবি জানান।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর