নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন: এবার অমিত শাহের মুখে নতুন সুর

ভারতে বিতর্কিত ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লিসহ অন্তত ১০ রাজ্যের ১৩ শহর।

বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের রাস্তায় নামাজ আদায় করে ইসলামবিদ্বেষী এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে তারা আজাদির জন্য প্রার্থনা করেছেন।

দেশের যখন এমন পরিস্থিতি, তখন অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে নতুন সুর তুললেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এবার তিনি নেপাল ও ভুটানের ওপর দোষ চাপালেন। তিনি জানালেন, ভারতের শান্তি বিঘ্নিত করতে নেপাল ও ভুটান সীমান্তকে ব্যবহার করে অনুপ্রবেশকারীরা এ দেশে ঢুকছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ৫৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য দিলেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু কিছু লোক ভারতে শান্তি দেখতে চায় না। তারা নেপাল ও ভুটানের সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে অনুপ্রবেশ করে।

নেপালের সীমান্ত দিয়েই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশ ঘটে দাবি করে অমিত শাহ বলেন, সারা পৃথিবীতে ভ্রমণ সহজ হয়ে যাওয়ায় কিছু লোক যেসব দেশে জীবনযাত্রা উন্নত, ওই সব দেশে প্রবেশ করে। মূলত নেপালের খোলা সীমান্ত দিয়েই অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে প্রবেশ করার বেশি চেষ্টা করছে।

এর পেছনে পরিসংখ্যানও দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত এক বছরে নেপালের সীমান্তরেখায় ৫৪ অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানের বাসিন্দা ছিল।

পাকিস্তান ছাড়াও নেপাল বর্ডার দিয়ে আরও ২৪ দেশের অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল বলে তথ্য দেন অমিত।

অমিত শাহ বলেন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জির মাধ্যমে আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে ভারত থেকে সব অনুপ্রবেশকারীকে বের করে দেয়া হবে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের মধ্যে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তোলার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, মোদি সরকার প্রথম থেকেই বলে এসেছেন যে, নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনের মূল লক্ষ্যই হলো অনুপ্রবেশ ঠেকানো।

ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রসঙ্গ উত্থাপন না করে অনুপ্রবেশ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে এর সঙ্গে ভারতের জাতীয় সুরক্ষার বিষয়টিকে সম্পর্কিত করছেন অমিত শাহ। ভারতের জনগণকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের পক্ষে অবস্থান নিতে বেশ চালাকির আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনে মুসলমানদের একটি বড় অংশই শঙ্কা আর আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি এই আতঙ্ক ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। ধর্মভিত্তিক ও মুসলমানবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের পর তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বাংলদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর