দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে এখনো ২২টি খাতে শিশুশ্রম রয়েছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতেই শিশুশ্রম বেশি। শিগিগরই এসব খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে এ ইস্যুতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে শিগিগরই পাঁচটি খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হবে। এ খাতগুলো হলো—জাহাজ ভাঙা, ট্যানারি, সিল্ক, কাচ ও সিরামিক খাত। জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদের ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও কারখানা মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, সরকার শ্রম খাত থেকে শিশুশ্রম নিরসন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পাঁচটি খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। তবে এসব খাতকেও পুরোপুরি শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করতে আরো এক থেকে দেড় বছর লেগে যেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য খাত থেকেও শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে বেসরকারি সংস্থা, ট্রেড ইউনিয়নসহ অন্যকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ বিষয়ে গতকালের সভায় আলোচনা হয়েছে। অবশ্য ইতোমধ্যে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস ও চিংড়ি খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান মনে করেন, শিশুশ্রম কমছে। যদিও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম বেশি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। গতকালের সভায় তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম কমেছে; কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম রয়েছে, এটি অস্বীকার করা যাবে না। তবে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণভাবেই শিশুশ্রমমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব হবে। এ সময় আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) নীতিমালা ও দেশের শ্রম আইনের বিধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৪-১৮ বছরের শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ নয়—এমন কাজে বাবা-মাকে সহযোগিতা করতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে যা যা করা দরকার সবকিছু করবে সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে নেওয়া প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ১ লাখ শিশুকে প্রত্যাহার করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম ছাড়াও সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মোল্লা জালাল উদ্দিন, ড. রেজাউল হক, সাকিউন নাহার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের শ্রম উপদেষ্টা কে এস সাইফুদ্দিন, জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সুরাইয়া আক্তার, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খান প্রমুখ।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি