আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ

মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলন আজ (শুক্রবার)। এমন এক সময়ে সম্মেলনটি হচ্ছে যখন ক্যাসিনো কাণ্ডসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই চলছে কঠোর শুদ্ধি অভিযান। যা দেশের ইতিহাসেই নজিরবিহীন। মূল দল আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনেও এই শুদ্ধি অভিযানের প্রভাব পড়বে।

বলা হচ্ছে, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের আনা হবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে। দলকে পরিচ্ছন্ন, তারুণ্যনির্ভর ও যুগোপযোগী করে ঢেলে সাজানো হবে। পরিশুদ্ধ নেতৃত্ব নিয়েই দলটি জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতো ঐতিহাসিক দুটি মাইলফলক উদযাপন করতে চায়। এ হিসেবে দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন দিনের সামনে।

সংগ্রাম ও সাফল্যের পথপরিক্রমায় ৭০ বছর পার করছে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বতৃন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে উপজীব্য করে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হবে ত্রিবার্ষিক এ সম্মেলন। বেলা ৩টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

সম্মেলনে প্রায় ৭ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসহ ৫০ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন। আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন। সেখানে দলের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় অন্যবারের তুলনায় দেশের মানুষের কৌতূহল এবার একটু বেশিই। দলটির মধ্যে যারা নানা অসৎ উপায়ে অর্থের মালিক হয়েছেন, ক্ষমতার দম্ভে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে, তাদের বিষয়ে দলটির সম্মেলনে কী সিদ্ধান্ত আসে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি থাকবে রাজনীতি সচেতন মানুষের।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে সমাজতন্ত্রের কথা। তবে দলটিতে গত এক দশকে ব্যাপক মাত্রায় ব্যবসায়ী ও আমলানির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। জনপ্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও আমলারা। ১৯৭০-এর দশকে বা ৮০ দশকেও দলটিতে আধিক্য ছিলো কৃষক-শ্রমিক ও ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব দানকারীদের। এ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্যবাহী অবস্থানÑ কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক আশ্রয়স্থলরূপে ফের আবির্ভূত হবে এমন আশা করছেন রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা। গত প্রায় চার মাস ধরে চলা শুদ্ধি অভিযান তারই ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন তারা।

আজ সম্মেলনে উদ্বোধনী আয়োজনের পর থাকবে ২৫ মিনিটের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য। সম্মেলন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্মেলনস্থল, প্রবেশপথসহ চারপাশে দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন।

সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ১০২ ফুট দীর্ঘ, ৪০ ফুট প্রশস্ত মূল মঞ্চটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, দেখলে মনে হবে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে বিশাল এক নৌকা। থাকছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুও। সম্মেলনস্থলে নেতাকর্মীদের প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাঁচটি গেট থাকবে। ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হবে সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান। সম্মেলন উপলক্ষে ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছে। এতে রয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মশিউর রহমান ও অধ্যাপক সাঈদুর রহমান।

আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন ২০১৬ সালের ২২-২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেখ হাসিনা অষ্টমবারের মতো সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদের প্রথমাবের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রোখার শপথ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, সম্মেলনের এবারের শপথ হবে, জঙ্গিবাদ নির্মূল ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দেওয়া। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষ তুলে ফেলা এবং জঙ্গিবাদ নির্মূল বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ। এটি বাস্তবায়নে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগের এবারের কমিটিকে আরও গতিশীল করা হবে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কে আসছেন তা আল্লাহ ও নেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ জানেন না।

বার্তা বাজার/ ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর