রাখাই থেকে উদ্বাস্তু হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অপরাধ প্রবনতা দিন দিন বিষিয়ে তুলছে কক্সবাজারে উখিয়া-টেকনাফের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। মাদক, মানব পাচার, পতিতাবিত্তি, চুরি, ডাকাতি, খুন তাদের পেশায় পরিনত হয়েছে। নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে গড়ে তুলেছে পৃথক পৃথক ডাকাত দল। এসব রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাত থেকে ১৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ২১ দিন পর ফিরে এসেছেন কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং কম্বনিয়া এলাকার কবির আহমদের পুত্র হামিদ হোছন (৩০)। অভিযোগ রয়েছে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়ার পরেও পুলিশের কোন তৎপরতা ছিলোনা।
অপহৃত হামিদ জানায়, গেলো ২৭ নভেম্বর দুপুরে হোয়াইক্যং ৯নং ওয়ার্ড কম্বনিয়া পাড়ার আব্দুল মজিদের পুত্র জলিল আহমদ (৭২) এবং কবির আহমদের পুত্র প্রবাস ফেরত হামিদ হোছন (৩০) পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে নিজেদের পোষা মহিষের পাল আনতে যায়। তারা উভয়ে চাচা ভাতিজা। এসময় পাহাড়ে অবস্থানকারী একটি রোহিঙ্গা ৭/৮ জনের সশস্ত্র ডাকাত চাচা-ভাতিজাকে অপহরন করে। অপহরণের পর (০০৯৫৯-৪২৫৮৯৬৮৫৮) নাম্বার হতে কল করে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। এদিকে জিম্মি অবস্থায় জলিল আহমদের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে বাড়িতে পৌছে মুক্তিপণ দেওয়ার শর্তে ১ডিসেম্বর তাকে মুক্তি দেয়। জলিল বাড়িতে পৌছানোর পরে টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় ডাকাত দল ক্ষুদ্ধ হয়ে হামিদের বাম হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুল কেটে নেয়।
হামিদের ভাই হাফেজ জাহিদ জানান, অপহরনের পরের দিন ২৮নভেম্বর হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানালেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যরা অপহরনকারীদের নির্দেশ মতো সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যানাগাদ হোয়াইক্যং কম্বনিয়া পাড়া সংলগ্ন পাহাড়ে মুক্তিপনের ১৪ লক্ষ টাকা একটি গাছের তলায় রেখে চলে আসে।
অপহৃত হামিদ জানান, মুক্তিপণ পাওয়ার পর মঙ্গলবার (১৭ডিসেম্বর) ভোরে চোখ বাঁধা অবস্থায় গভীর পাহাড়ের একটি ছড়ায় নামিয়ে দিয়ে হাতে দিক নির্দেশনামূলক একটা লিখিত কাগজ এবং লাঠি দিয়ে পাহাড়ি ছড়ার পথ ধরে হাঁটতে বলে। চলতে চলতে দুপুরের দিকে লোকালয়ের সন্ধান পায়। এভাবে সে দ্বীর্ঘ ২১ দিনের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। পরবর্তিতে কক্সবাজার আল ফুয়াদ হাসপাতালে নেয়ে হলে সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে বুধবার বাড়িতে ফিরে এসেছেন।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই নাজমুল জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা পাহাড়ে অভিযান চালিয়েছি। অপহৃত হামিদের কোন হদিস পআওয়া যায়নি। পাহাড়ে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ডাকাতদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস