বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

দিনাজপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম সুন্দরায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর মা। ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে গত বুধবার দিবাগত রাতে ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

কোতয়ালি থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরা আদর্শ স্কুলে অনুষ্ঠিত গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিলো ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। রাত সাড়ে ৯টায় মঙ্গলার বাজার এলাকায় জনৈক আলতাফ সারের দোকানের কাছাকাছি পাকা রাস্তায় পৌঁছালে ৩ জন তাকে জোরপুর্বক ৩০০ গজ দূরে পাথারিয়া পুকুরপাড়ে ধরে নিয়ে যায়।

সেখানে ওই তিন ব্যাক্তি স্কুলছাত্রীর মুখ ও হাত-পা বেঁধে জোরপুর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্কুলছাত্রী জ্ঞান হারালে ধর্ষণকারীরা তাকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মৃত ভেবে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পুকুরে ফেলার পরে জ্ঞান ফিরলে কোনরকমে ওই ছাত্রী কাপড় পড়ে বাড়িতে আসে।

বাড়িতে এসে রাতেই তার মা ও খালাসহ পরিবারের আরো কয়েকজনকে গণধর্ষণের ঘটনাটি খুলে বলে। ওই সময় মেয়েটি তার মা ও পরিবারের স্বজনদের বলে, আমাকে যখন জোর করে ধর্ষণকারীরা ধরে নিয়ে আসে তখন আলতাফের দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক আলোতে ধর্ষণকারী মো. মোকছেদুল ইসলাম টুকলুকে (৩১) চিনতে পারি। বাকি আরো ২ জন ধর্ষণকারীকে চিনতে পারিনি তবে তাদের বয়স ৩০ বছরের বেশি হবে বলে জানান ওই ছাত্রী।

রাতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে পরের দিন ১৭ ডিসেম্বর ওই স্কুল ছাত্রীকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর গত ১৮ ডিসেম্বর বুধবার রাতে স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরা জুলকাপাড়া গ্রামের লাল মোহাম্মদের ছেলে মোকছেদুল ইসলাম টুকলু ও অজ্ঞাতনামা আরও ২ জনসহ মোট ৩ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

স্কুলছাত্রীর মা জানান, ধর্ষকরা তার মেয়েকে এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এখনও বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তার মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।’

দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. ফজলুর রহমান জানান, ওই স্কুল ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
দিনাজপুর কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বজলুর রশিদ জানান, দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করার অভিযোগে ৩জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ওই ছাত্রীর মা। আমরা অভিযুক্তদের ধরার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। তারা যেখানেই থাকুক তাদের আইনের আওতায় আমরা আনবোই।’

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর