একাধিক মামলার আসামী হাফিজুর রহমান বিপ্লবের হাত থেকে রেহাই পেতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, শহরের রসুলপুর মেহদীবাগ এলাকার মৃত বাবর আলী গাজীর মেয়ে জোছনা।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে জানান, বিগত ১২ বছর পূর্বে নড়াইলের নেড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের হাসেম মোল্যার পুত্র হাফিজুর রহমান বিপ্লবের সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ বছর পর তার আসল চরিত্র বেরিয়ে আসায় তার সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও সে বিভিন্নভাবে আমাকে ও আমার ঢাকা প্রবাসী বোন এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, খুন জখমের হুমকি ও চাঁদা দাবি করতে থাকে। একপর্যায়ে আমার বড় বোনের ঢাকার বাসায় গিয়ে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাট করে উল্টো তার নাম ঢাকার বাড্ডা থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

এছাড়া ইতিপূর্বে আমার বোনের বিরুদ্ধে ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং ৫০লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। বর্তমানে আমার বোন তার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে সে বিভিন্ন নেতা ও প্রশাসনের তদবিরে পার পেয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে নড়াইল চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী সহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ইতিপূর্বে তার আরো দুটি স্ত্রীও রয়েছে। এমনকি সে ভূয়া কাবিনা নামা তৈরি করে আমার বোনকেও তার স্ত্রী দাবি করে এবং ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি মিথ্যা ছিনতাই মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজত খাটায়।
জামিন আসার পর সে তাকে একটি ঘর চাঁদার দাবিতে ২ মাস আটক রাখে। তিনি আরো বলেন, গত ২৩ অক্টোবর আমার বোনকে সাতক্ষীরা জজকোর্টের সামনে থেকে তুলে নিয়ে তার কাছ থেকে স্বর্ণর গহনা ও টাকা পয়সা লুটপাট করে তাকে বেধড়ক মারপিট করে এবং তার কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে ওই স্ট্যাম্পে ইচ্ছামত টাকার অংক বসিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছে। এছাড়া গত ৯ ডিসেম্বর ছেলের মার্কেট করে দেওয়ার নাম করে আমাকে খুলনায় নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। এঘটনায় আমি খুলনার হরিণটানা থানায় একটি মামলা করি। বর্তমানে সে আমাকে খুন জখমের হুমকি প্রদর্শন করছে।
এছাড়া সে বিভিন্ন মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা দাবী করে থাকে। চাঁদার দাবীতে সে নড়াইলের কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল মোল্লাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে। এঘটনায় ওই ভুক্তভোগী একটি মামলাও করেন। এছাড়া আমার বোন হোসনেয়ারা রুপাক ঢাকায় থাকতে দিচ্ছে না। আমার বোনের ১৮ বছর বয়সী পুত্রের বিরুদ্ধে এবং আমার ভাইসহ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ওই মিথ্যা মামলার কারণে আমার বোনের ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি আশংখা করছি সে যে কোন সময় আমার পরিবারের সদস্যদের খুন জখমসহ মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। বর্তমান তার অত্যাচার আমরা দিশেহারা। এমতাবস্থায় তিনি ওই সস্ত্রাসীকে গ্রেফতারসহ তার পরিবারকে তার হাত থেকে উদ্ধার করতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস