জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে ১০ গ্রামের বাসিন্দাদের মানববন্ধন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার খয়েরবাড়ি ও দৌলতপুর ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় ১০টি গ্রামের সাধারণ মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলবাড়ি উপজেলার উত্তর লক্ষীপুর বাজারে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে দাড়িয়ে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন এলাকাবাসী।

উপজেলার আখিঁরার বিল কতিপয় লোক সরকারে কাছে লিজ নিয়ে পুকুর খনন করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়। পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে প্রায় দুই হাজার বিঘার ফসল ও জমি। পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে প্রশাসনের সাথে গ্রামবাসীর। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তেই আসতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গ্রামবাসীদের দাবি, দ্রুত আখিঁরার বিলটি লিজ বাতিল করে পূর্বের ন্যায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে আগামী ইরি বোরো ফসল উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করে গ্রামবাসীকে ফসল ফলাতে সাহায্য করতে হবে।

মানববন্ধনে গ্রামবাসীরা দাবি জানান, সরকারে খাস খতিয়ান ভুক্ত জলাশয় আখিঁরার বিলটি পূর্বনারায়ণপুর থেকে শুরু হয়ে মহেষপুর, মহদিপুর, উত্তর লক্ষীপুর বাজারের কোল ঘেষে দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া ঘোনাপাড়া গড় পিংলাই গ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়ে শাখা যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে।

শত শত বছর থেকে এই বিল দিয়ে এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছিল। কিন্ত গত চার বছর থেকে এই জলাশয়টি একটি ভূমিদস্যু গোষ্ঠী সরকারের নিকট লিজ নিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে পুকুর খনন করেছে। এই কারণে এখন এই ১০টি গ্রামবাসীর বর্ষার পানি নিষ্কাশন হচ্ছেনা। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ১০ গ্রামের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে আমন ও বোরো চাষ করতে পারছে না এই অ লের কৃষক।

খয়েরবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আখিঁরার বিলের পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ১০ গ্রামের মানুষ এখন ঠিকমত কৃষি চাষাবাদ করছে পারছেন না। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। তাই এখন তারা আন্দোলনে নেমেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এই আখিঁরার বিলটি গ্রামবাসীদের জন্য উম্মুক্ত করে ধান চাষের কাছে লাগানোর জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলার খয়েরাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের মন্ডল বলেন, ‘আমরা কৃষকদের কথা চিন্তা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অসহযোগিতার কারণে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে দৌলতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে মোবাইল ফোনে একাধিকার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামবাসীদের পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি সমাধান করার জন্য দৌলতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মন্ডল ও খয়েরবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু তাহের মন্ডলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল কিন্তু ওই দুই চেয়ারম্যান তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করায় গ্রামবাসীদের পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি সমাধান করা সম্ভাব হয়নি। আমরা নতুন করে এবিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করব করব বলেও জানান তিনি।’

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর