ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেশ কয়েকজন তরুণ নারী নেত্রী আসতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে।
তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের গত সম্মেলনের চেয়ে এবার বেশি সংখক নারী নেত্রীকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্য থেকেও অনেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাবেন।
আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গঠিত কমিটিতে সভাপতি শেখ হাসিনাসহ নারী নেত্রীর সংখ্যা ১৫ জন। তার মধ্যে গত সম্মেলনে নতুন মুখ হিসেবে এসেছিলেন শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, পারভীন জামান কল্পনা, মেরিনা জাহান ও মারুফা আক্তার পপি।
এবার সম্মেলনে এই সংখ্যা অনেক বাড়বে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ।
তিনি বলেন, “নতুন কমিটিতে গতবারের চেয়ে বেশি নারী আসবে। আমরা চেষ্টা করব আরপিওর বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করতে, যাতে করে ২০২২ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের সীমারেখো পূরণ করতে পারি। আর এতে দলে ত্যাগী নেত্রীরাই জায়গা পাবেন।“
সেক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী এবং দলের সাবেক ও বর্তমান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই বিবেচনায় এগিয়ে থাকবেন বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।
সেই হিসাবে এবারের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আলোচনায় আছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন সংসদ সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর, একাত্তরের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফের মেয়ে সাবেক সাংসদ মাহজাবিন খালেদ, নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি, ময়েজ উদ্দিনের মেয়ে সাংসদ মেহের আফরোজ চুমকি, সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক পিএস ১ ও ঢাকা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সেলিমা খাতুন (ওয়াজেদ মিয়ার ভাগ্নি), আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কায়সার আহম্মেদের মেয়ে ওয়াসফিয়া খানম, ব্যারিস্টার ফারজানা, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি লুৎফুন্নাহার মুন্নি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী আমেনা বেগম কহিনুরসহ বেশ কয়েকজন।
পাশাপাশি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্যেও একঝাঁক তরুণ মুখ এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দেখা যেতে পারে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
সর্বশেষ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দলের ৮১ সদস্যের কমিটিতে প্রায় ২৫ জন তরুণকে নেতৃত্বে আনা হয়েছিল, যারা বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওই সম্মেলনে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা পিজুস ভট্টাচার্যকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শ ম রেজাউল করিমকে আইন সম্পাদক করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেনও প্রথমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢুকে বন ও পরিবেশ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সারা দেশে পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা কার্যক্রমসহ ঢাকায় ২৮টি সেমিনার করেছেন দেলোয়ার, তার উদ্যোগে সারা দেশে ২০ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। এবারও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন বলে আশাবাদী কর্মীরা।
দেলোয়ার বলেছেন, আওয়ামী লীগের জন্য সারা জীবন কাজ করে যেতে চান তিনি। নেত্রী যে দায়িত্ব দেবেন তা সততা ও নিষ্ঠার পালন করাই হবে তার ব্রত।
বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুস সবুরকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক করা হয়। তিনিও অনেকগুলো সভা-সেমিনারের আয়োজন করেন, যা নিয়ে আশাবাদী তার সমর্থকরা।
সামুন্নাহার হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সামসুন্নাহার চাপাকে শিক্ষা ও মানব সম্পাদক করা হয়েছিল। তিনি এই এক বছরে এ বিষয়ে ১০টির মতো সেমিনারসহ নানা কর্মকাণ্ডে তৎপর ছিলেন।
জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বিপ্লব বড়ুয়াকে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক করা হয়। সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিশেষ সহকারী করেন।
এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্যে ইকবাল হোসেন অপু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হওয়ার পর শরীয়তপুর থেকে মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ হন।
ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মারুফা আক্তার পপি, আনোয়ার হোসেন, গোলাম রাব্বানী চিনু এবং জগন্নাথ হলের সাবেক নেতা রেমন্ড আরেংকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়।
এই নেতাদের মতো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসার প্রত্যাশা নিয়ে এখন ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করছেন তরুণ নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে আওয়ামী লীগের পরবর্তী কমিটিতে নতুন কারা আসতে পারেন।
আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দলটির ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে এ পরিবর্তন আসবে। ত্রিবার্ষিক এই সম্মেলনে পরীক্ষিত সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চলে আসতে পারেন বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারাও।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, “দলের ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী সংসদে এবার ব্যাপক রদবদল আনা হবে। কালিমালিপ্তদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সাবেক ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আনা হবে। নতুন নেতৃত্বের যে প্রত্যাশা আমরা করছি এর প্রতিফলন ঘটবে এবার।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের সকল সম্মেলনেই নেতৃত্বের পরিবর্তন নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে হয়ে থাকে। এবারও তেমনই হবে। অপেক্ষাকৃত তরুণরাই সামনের দিকে আসবে।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ থেকে কেউই বাদ যায় না, শুধু দায়িত্বের পরিবর্তন হয়। এখানেও অনেককে দায়িত্ব পরিবর্তন করে সাবেক ছাত্র নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।”
সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে অনেকের মুখেই আসছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারীর নাম।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ছাত্র। সারা জীবন ছাত্র হিসাবে থাকতে চাই। তিনি এই প্রতিষ্ঠানে যেভাবে রাখবেন, সেভাবেই থাকতে চাই।”
বাহাদুর ব্যাপারীর মতো ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত আরও অনেকের নাম আসছে আলোচনায়। তাদের মধ্যে আছেন-
চট্রগ্রাম অঞ্চলে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাইনুদ্দিন হাছান চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন হেলাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মহমুদ চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক সহ- সভাপতি সাইফুদ্দিন নাসির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালযের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন নাসিম, সাবেক সহ-সভাপতি প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আনসারী, সহ-সভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন, চাঁদপুরের এমপি রাহুল আমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।
রংপুর অঞ্চলে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমান।
ঢাকা অঞ্চলে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল লাভলু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, সাবেক সহ- সভাপতি ইশতিয়াক শীমুল, সাবেক ছাত্রনেতা মাকসুদুল আলম ডাব্লু, কেন্দ্রীয় সদস্য দীপক কুমার বণিক দীপু, সাবেক সহ-সভাপতি শাহাব উদ্দিন ফরাজী, সাবেক স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লা আল মামুন, সাবেক সহ-সভাপতি সুজাত রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দীন মেহেদী, সাবেক সহ-সভাপতি রাশেদুল মাহমুদ রাসেল, সাবেক সদস্য তারেক সামস হিমু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম মোস্তাক, ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান মডেল ফয়সাল, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নাঈম রাজ্জাক।
রাজশাহী অঞ্চলে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুল ইসলাম পল, সাবেক সহ- সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মানিক, সাবেক প্রচার সম্পাদক আরিফুর রহমান উজ্জল।
খুলনা অঞ্চলে ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অসীত বরণ বিশ্বাস, সাবেক দপ্তর সম্পাদক নাসিম আল মুমিন রুপক, সাবেক সদস্য সুভাস সিংহ রায়, সাবেক সদস্য রাশেদুল বাসার ডলার, সাবেক সহ-সভাপতি তারেক আল মামুন, সাবেক সহ-সভাপতি জয়দেব নন্দী।
বরিশাল অঞ্চলে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান আতা, সাবেক সহ-সভাপতি বলরাম পোদ্দার, সাবেক সহ-সভাপতি সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাবেক ধর্ম সম্পাদক হেমায়েত হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, মৈত্রী হলের সাবেক সভাপতি রোজিনা রোজী, সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান মনির, সাবেক সদস্য রুবিনা মিরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে আজিম ও সাজ্জাদ সাকিব বাদশা।
সিলেট অঞ্চলে ব্যারিস্টার আবদ্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ ডন, সুরঞ্জিতপত্নী জয়া সেন গুপ্ত, শেখ হাসিনার সাবেক বিশেষ সহকারী সারোয়ার হোসেন ও ছাইয়েদুল হক সুমন।
ময়মনসিংহ অঞ্চলে ডাকসুর সাবেক সম্পাদক মঞ্জুর কাদের কোরাইশী, সাবেক ছাত্রনেতা শফি আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মোস্তফা আলমগীর, সাবেক অর্থ সম্পাদক মোরশেদুজ্জামান সেলিম, সাবেক সহ-সম্পাদক আলমগীর হাসান, শামছুর রহমান (ভিপি লিটন), সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমনান টুটুল।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বার্তাবাজার/কে.জে.পি