আমি হুইপের ভাতিজা, আপনাদের যা করার আছে করেন: উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা

পেশায় দিনমুজুর, তালিকা ভুক্ত কৃষকও নন, করেননি ধান চাষ। তারপরেও পঞ্চগড় সদর উপজেলায় সরকারিভাবে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন অনেকেই। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন প্রকৃত কৃষকেরা। অভিযোগও হয়েছে এক উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

মঞ্জুর মোরশেদ পলাশ নামের ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে চটে যান তিনি, পরিচয় দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম তার আপন চাচা।সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা কি রিপোর্ট করবেন করেন, আমার আপন চাচা হুইপ। পলাশ সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম হওয়ায় গত ১২ ডিসেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর তার বিরুদ্ধে গণ অভিযোগ করেছে একই ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকার কৃষকেরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নে সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ের জন্য কৃষকদের মাঝে লটারি হয়। কিন্তু লটারির তালিকায় যারা রয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই ভুমিহীন, দিনমুজুর এবং কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত নয়। অথচ প্রকৃত কৃষকেরা সরকারের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এছাড়াও এই উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে স্যার সম্বর্ধন না করলে কৃষকদের পাত্তা দেননা বলেও জানা যায়।
ওই এলাকার কৃষক সচিমহন চন্দ্র রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা কৃষক না তাদের নাম কিভাবে লটারীর তালিকায় যায়।
বিল্লাল হোসেন নামের আরেক কৃষক বলেন, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে না এসে মনগড়া তালিকা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় মঞ্জুর মোরশেদ পলাশ আরো বলেন, কি রিপোর্ট করবেন করেন, আমার আরেক চাচা বিচারপতি, দাদা এমপি ছিলো, আমি এক সময় ছাত্রলীগের গোটা দিনাজপুরের সেক্রেটারি ছিলাম।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়া জানান, আমরা কৃষকদের তালিকা করার জন্য মাত্র পাঁচ দিন সময় পেয়েছি। এতো অল্প সময়ে তালিকা তৈরি করায় একটু গড়মিল হতে পারে। তবে পলাশ সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণ করা ঠিক করেন নি।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর