মাওলানা স্বামীর নির্যাতনে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে দুই সন্তানের মা

পঞ্চগড়ে যৌতুক লোভী পাষন্ড স্বামীর দাবিকৃত ৩ লক্ষ টাকা দিতে না পারায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে নুর নাহার আক্তার রীনা নামের এক গৃহবধূ।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়ী গ্রামের মোঃ নবির উদ্দীনের কন্যা নুর নাহার আক্তার রিনার সাথে গত ৭ বছর আগে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের গোয়াল পাড়া গ্রামের মৃত লাল মামুন এর ছেলে ও খাদিজাতুল কোবরা কওমী মহিলা মাদরাসার সুপার মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমানের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় হাফিজুরের চাহিদা অনুযায়ী ৩ লক্ষ টাকা যৌতুকসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেয়া হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ছয় ও দুই বছরের ২টি কন্যা সন্তান আছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ বিয়ের পর থেকে যৌতুকলোভী স্বামী মাওলানা হাফিজুর রহমান আরও ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে আসছিল। টাকা দিতে তারা ব্যর্থ হলে প্রতিরাতেই রিনার উপর চালাতো পাষবিক নির্যাতন স্বামী মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান।

গত ১৭ ডিসেম্বর স্বামী মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান নির্মম ভাবে নির্যাতন করতে থাকে রিনাকে। এক পর্যায়ে রিনাকে ঘরের ভিতর আটকে রাখে। প্রতিবেশীরা রিনার বাবাকে খবর দিলে তাৎক্ষনিক তার বাবাসহ স্বানীয়রা ঘরের ভিতর থেকে আহত অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতাল ভর্তি করে।রিনা বর্তমানে ক্ষত-বিক্ষত শরীর নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রীনার পরিবারের সদস্যরা বলেন, নির্যাতনকারী ও যৌতুক লোভি মাওলানা হাফিজুরের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে রীনার স্বামী মাওলানা হাফিজুরের সাথে কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলে তিনি মিটিং আছেন বলে জানান। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর