ফজর নামাজ পড়ে নিচে হাটার সময় খেয়াল করলাম ম্যানহোলের ভিতর থেকে কুকুরের বাচ্চার কান্নার আওয়াজ৷ আমাদের এলাকার কুকুরের বাচ্চা ই৷ দিন ১৫ হইছে পৃথিবীতে আইছে৷
ঠিক কত সময় সে ড্রেনের এই পানির মধ্যে আছে জানি না৷ তবে বেচে আছে এটাই অনেক।
কোন কিছু না ভেবে আশেপাশে থাকা লোকজনদের বললাম, ভাই আমার দুই পা ধইরা ম্যানহোলের ভিতর ঢুকাই দেন৷ আমি ওরে হাত দিয়া নিয়া আসি৷ এই মুহূর্তে এটা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না৷
ওনারা যখন আমারে ম্যানহোলের ভিতর ঢুকাই দেয় তখন একটু ভয় করতেছিল যে, যদি পা ফসকে যায় তাইলে আমার মুখ ড্রেনের পানি বরাবর পরবে৷
এলাকার মসজিদের মোয়াজ্জেম বেশ হেল্পফুল ছিলেন৷ ঈনি বাশ, দড়ি, পলিথিন এনে দিছেন আমারে। তবে সবশেষ নিজেই চলে গেছি ভিতরে।
একটা প্রাণ তো উদ্ধার করতে পারলাম৷
উঠানো সাথে সাথে সে এক দৌড়ে মায়ের কাছে চলে গেছে৷ মা যত্ন নিচ্ছে আপাতত। মা কুকুর দূর থেকে দেখতেছিল সব৷
সবচেয়ে ভালো লাগার ব্যাপার হলো, আশেপাশে সবাই খুব ভালো দৃষ্টিতে দেখছে। কুকুরের বাচ্চার জন্য ম্যানহোলের ভিতর নামতেছি এটা নিয়া কেউ হাসাহাসি করে নাই৷
একটা প্রাণ উদ্ধার করতেছি এটা খুব পজেটিভ ভাবে নিল সবাই৷
লেখাঃ মেহেদী আলম (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
বার্তাবাজার/কে.জে.পি