রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে পাকিস্তানের আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। রায় ঘোষণা নিয়ে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, এই রায়ে তারা তীব্র ব্যথিত এবং ক্ষুব্ধ।
স্বাধীনতা পরবর্তী পাকিস্তানের ইতিহাস বলছে, সামরিক অভ্যুত্থান ও তার জেরে সংবিধান মুলতবি হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন নয়। কিন্তু তার জেরে কোনো সাবেক সেনাশাসকের মৃত্যুদণ্ডের নজির নেই। ১৯৯৯ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ক্যুর মাধ্যমে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন মোশাররফ। কিন্তু যে অপরাধের কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সেটি ২০০৭ সালের। সে বছর ৩ নভেম্বর নিজের প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ বাড়াতে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করেন তিনি। গৃহবন্দি করা হয় শতাধিক বিচারককে। পেশোয়ার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার আহমেদ শেঠের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সেই মামলার চূড়ান্ত শুনানির পর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে।
আদালতের রায়ের বিপক্ষে সামরিক বাহিনীর অবস্থান তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, একজন সাবেক সেনাপ্রধান, জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ কমিটি চেয়ারম্যান এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, যিনি ৪০ বছর দেশের সেবা করেছেন, দেশকে সুরক্ষা দিতে যুদ্ধে লড়েছেন, তিনি কোনোভাবেই রাষ্ট্রদ্রোহী হতে পারেন না। আদালত তাকে এই বিশেষণে অভিহিত করতে পারে না। রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলা হয়, ‘বিশেষ আদালত গঠন, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অস্বীকার করা, ব্যক্তিগত সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া এবং তাড়াহুড়ো করে মামলা শেষ করে বিচারের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ন্যায়বিচার করা হবে—পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এমনটিই আশা করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইমরান খানের সরকারের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রায় রিভিউ করে দেখবে তারা। এরপর পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে। —টাইমস অব ইন্ডিয়া
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস