সংস্কৃতি উৎসব বন্ধের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ সমাবেশ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সাহিত্য সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি, অশ্লীলনৃত্য ও বেহায়াপনা হচ্ছে দাবী করে তার বিরোদ্ধে ৫ শতাধিক কর্মী কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। চুনারুঘাট ইসলামী যুব পরিষদের ব্যানারে মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

এসময় চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ ঈদগা ঘেরাও করে রাখে। সারা উপজেলা শহরে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। টহলরত অবস্থায় রয়েছে র‌্যাব ও পুলিশের গাড়ি।

এদিকে বিকেল সাড়ে ৩ ঘটিকায় তাদের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে কোন প্রকার অসংস্কৃতি হলে তা বন্ধ করা হবে বলে বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর। কিন্তু তারা তা না মেনে প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রাখে। তারা যে কোন মুল্যে স্থানীয় ডিসিপি হাই স্কুল মাঠে তাদের ভাষায় অপসংস্কৃতিকে বন্ধে জেহাদ ঘোষনা করেছে। এ নিয়ে গত দুদিন ধরেই পৌর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অপরদিকে সাহিত্য সংস্কৃতি উৎসবের ৩০ বছর পুর্তি উপলক্ষে চুনারুঘাট ডিসিপি হাইস্কুল মাঠে গত মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ৫দিন ব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করার কথা ছিল জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন এর। কিন্তু ইসলামী যুব পরিষদের আন্দোলন এবং গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টের কারণে তিনি সে স্থানে আসেননি। তবে সন্ধ্যায় উৎসবের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট আভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

ইসলামী যুব পরিষদ ৫দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আসছিল গত এক সপ্তাহ পুর্ব থেকেই। তারা সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতির চর্চা হয় দাবী করে এ অনুষ্ঠানের বন্ধের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেয় এবং শহরে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ১৭ ডিসেম্বর এ অনুষ্ঠান উদ্বোধনের দিন তারা স্পিকারকে সম্মান করে তাদের কোন কর্মসূচী দেয়নি বলে জানান, আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাওলানা আব্দুল আজিজ।

(১৮ ডিসেম্বর) আজ দ্বিতীয় দিন দুপুরে স্থানীয় ঈদগা মাঠে তারা ৫শ নেতাকর্মী কাপড়ের কাপন পড়ে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। এপ্রেক্ষিতে দুপুরে জোহরের নামাজের পর-পরই তারা ঈদগা মাঠে জমায়েত হয়। এখবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ লাইন থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এনে শহরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে মোতায়েন করা হয়। শহরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। বেলা আড়াইটায় প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই শত শত যুব পরিষদ সদস্য কাপনের কাপড় পড়ে ঈদগা মাঠে হাজির হয়।

বেলা সাড়ে ৩টায় প্রতিবাদ সমাবেশে আসেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট এম আকবর হোসেন জিতু। তারা সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের অনুষ্ঠানে কোন ভাবেই অপসংস্কৃতি বা বেহায়াপনা কোন অনুষ্ঠান হবে না বলে তাদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন। একই ভাবে প্রশাসন থেকেই তাদের প্রতিবাদ সমাবেশ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা অপসংস্কৃতি বন্ধের দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রাখে। সমাবেশ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
এতে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল করিম, শামছুল হক তালুকদার, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম, মাওলানা মনসুর, আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন, মাওলানা ফারুক আহমেদ, হাফিজ আশরাফ, মাওলানা মোসাহিদ ও আশিক। তবে ইসলামী যুব পরিষদের মিছিল না বের হওয়ায় বড় ধরনের সংঘাত থেকে বেচে যায় চুনারুঘাট। তবে শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে আজ (১৮ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনের কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলানিউজ২৪.কমের সম্পাদক কবি জুয়েল মাজহার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবি মুস্তাফিজ শফি। দ্বিতীয় অধিবেশনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, নৃত্য, নাটক, বাউল গান ও সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ বরেণ্য আলোচক ও সঙ্গীত শিল্পীরা অংশ নেয়।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর