বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা। রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিনি ট্রাকে বস্তাভর্তি মিশরীয় পেঁয়াজ বিক্রি করতে ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বিক্রেতা নাজমুল।
খুব বড়জোর হাতে গুণা জন-দশেক লোক ট্রাকের সামনে জটলা করে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে তাদের সবাই ক্রেতা নন। ক্রেতাদের মধ্যে দুজনকে ট্রাকের বস্তার পেঁয়াজ টিপে দেখতে দেখা যায়।
বিক্রেতা নাজমুল হেসে বলেন, ‘হায়রে ভাই, কয়েকদিন আগে ১ কেজি পেঁয়াজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আর এখন বস্তা টিপে ভালোমন্দ দেখে পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন। কথা শুনে ক্রেতা কিছুটা বিব্রত। দ্রুত দুই কেজি করে চার কেজি পেঁয়াজ কিনে চলে গেলেন।
সপ্তাহখানেক আগেও রাজধানীজুড়ে পেঁয়াজের যে হাহাকার ছিল তা যেন উবে গেছে। টিসিবির বিক্রেতারা রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকলেও পেঁয়াজের ক্রেতা নেই। বাজারে দেশি পেঁয়াজ উঠায় আমদানি মিশরীয় পেঁয়াজ নিয়ে এক প্রকার বিপাকেই রয়েছেন ক্রেতারা।
গত দুই আড়াই মাস যাবত পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে কেজি প্রতি ২৫০ থেকে ২৬০টাকায় উঠে গেলে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিশরীয় পেঁয়াজ আমদানি করে। এরপর এই পেঁয়াজ কেজি ৪৫টাকা দরে বিক্রি করতে শুরু করে।
ওই সময়ে টিসিবির ট্রাকগুলো ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ১ হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি শেষ করে ফেলত। তখন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পেঁয়াজ না পেয়ে ফেরত যান। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন বিত্তরা চরম বিপাকে পড়েন। দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার বন্ধ রাখেন।
গত সপ্তাহ থেকে দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় মিশরীয় পেঁয়াজের চাহিদা কমতে থাকে। পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য হওয়ায় টিসিবির মজুদ পেঁয়াজ পচে যাওয়ার আগে এখন বিক্রি হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বার্তাবাজার/এমকে