বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতা ও দক্ষতার প্রশংসা করে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর।
দেশপ্রেম, সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে বিজিবি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে, বিজিবি দিবস উপলক্ষ্যে বিজিবি সদর দপ্তরে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি। এ সময় বিজিবি সদস্যদের দক্ষতা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী, শিশু এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কাজ করছে নিরলস। স্বাধীনতা যুদ্ধেও এ বাহিনীর ছিল অবিস্মরণীয় অবদান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা তৎকালীন ইপিআর সদর দপ্তর থেকে ওয়ারলেসে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।
বিজিবি দিবসে পিলখানায় বিজিবির সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কনটিনজেন্ট অনুয়ায়ী প্রধান অতিথিকে সালাম দেয়া হয়।
পরে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সাথে সীমান্ত চুক্তি জাতির পিতা করে গেলেও ৭৫ পরবর্তী সময়ে তার কোনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। বঙ্গবন্ধু যেভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তা পারেননি। সে দায়িত্ব এখন আমার-আপনাদের সকলের ওপর। স্বাধীনতার পরে একটি বিধ্বস্ত দেশকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। তার দেখানো পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। খাবারের জন্য কারো কাছে হাত পাততে হয় না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। মনে রাখবেন দেশ উন্নত হলে তার সুফল সকলেই পাবেন।
তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষা নয় দেশের সাধারণ মানুষের প্রয়োজনেও বিজিবি পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের দেখভালের দায়িত্ব তাদের ওপরই। পাশাপাশি পার্বত্য দুর্গম সীমান্ত এলাকায় সড়ক নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিকায়ন করে গড়ে তোলার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ জন্য বিজিবি ভিষণ-২০৪১ ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি হেলিকপ্টারসহ দুর্গম এলাকায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সরবরাহ করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য চুয়াডাঙ্গায় আরেকটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করা হয়েছে।
এ সময় বিজিবিকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তার ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মর্যাদা লাভ করবে, এমন আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি