বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্রের মালিকানায় পরিচালিত ২৫টি পাটকল বছরের পর বছর ধরে লোকসান দিচ্ছে। তাদের আর্থিক সংকট মেটাতে সরকার কেবল গত এক দশকেই প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।
বাংলাদেশ জুট মিলস্ কর্পোরেশন বিজেএমসি’র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল। এরমধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ৬টি, চট্টগ্রামে ১০টি ও খুলনা অঞ্চলে ৯টি পাটকল রয়েছে।
এসব পাটকলে স্থায়ী, বদলি এবং দৈনিক ভিত্তিতে ৬৭ হাজার শ্রমিক কাজ করে। ২০১০ সালের মজুরি কমিশন অনুযায়ী তাদের বেতন-ভাতা দেয়া হয় এবং এতে খরচ হয় বছরে ৬শ’ কোটি টাকার বেশি। ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়। এটি বাস্তবায়ন করলে বছরে আরো ৩শ’ কোটি টাকা বেশি লাগবে শুধু শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে।
নতুন মজুরি কমিশন অনুযায়ী বেতনভাতা না পাওয়ায় গেলো চার বছরে সরকারি পাটকলের শ্রমিকদের পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭শ’ কোটি টাকা। বেতন বাড়লেও পাকলগুলোতে উৎপাদন বাড়েনি। কেবল গত ১০ বছরে লোকসানের পরিমাণ চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে লোকসানের পরিমাণ ৫শ’ ৭৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
বেসরকারি খাতে পাটকলের একজন শ্রমিকের সর্বনিু মজুরি সাড়ে সাত হাজার টাকা। ব্যক্তি মালিকানার প্রায় তিনশ’ পাটকলই লাভজনক। বেসরকারি খাতের পাটকল মালিকরা বলছেন, দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব রাষ্ট্রায়াত্ত্ব পাটকলগুলোর মূল সমস্যা।
পলিথিন-বিরোধী আন্দোলনের ফলে বিশ্বব্যাপী পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই খাতের আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি