সরকারি খাস জমিকে নিজের জমি বলে যমুনা ব্যাংক থেকে ১১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ নেন এক গ্রাহক। অবৈধ কাগজে ঋণ নিতে সহযোগিতা করেন ব্যাংকটির সাত কর্মকর্তা। পরে নির্দিষ্ট সময়ে ঋণের টাকা ব্যাংকে ফেরত না দিয়ে সাত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১২ জনে মিলে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে ওই ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার বিকেলে এ ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রাম-১ এর উপপরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন।
ওই পাঁচ ব্যাংক কর্মকর্তা হলেন- যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের ভাটিয়ারী শাখার সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার সাহাব উদ্দিন, সুব্রত সেবক বড়ুয়া, মো. গোলাম সরোয়ারুল হক, মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী ও মোহাম্মদ রায়হান।
দুদক জানায়, ২০০৬ সালে ভাটিয়ারীর শীতলপুর এলাকায় সরকারের ৫৪.৬৯ শতক জমি যমুনা ব্যাংকের ভাটিয়ারী শাখায় বন্ধক রাখেন নগরীর ডবলমুরিং এলাকার নুর চেম্বার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সরকারি জমি বন্ধক রাখার নিয়ম না থাকলেও ব্যাংকটির তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আজমসহ সাত কর্মকর্তার যোগসাজশে ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৭৮ টাকা ঋণ পাইয়ে দেন। এসব টাকা পরিশোধের নির্ধারিত সময় থাকলেও তা না করে বরং এই সাত কর্মকর্তাসহ ১২ জন মিলেই সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন। যার বিষয়ে ২০১৬ সালে দুদকে একটি অভিযোগ পাওয়া যায়।
২০১৬ সালে অভিযোগ দাখিলের পর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয়। পরে দুদকের তিন সদস্যের গঠিত টিম দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায়। এ বিষয়ে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে অর্থ আত্মসাতের দায়ে গত রোববার মামলা করেন। মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
বাকিরা আসামিরা হলেন-ব্যাংকটির তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আজম, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, গ্রাহক নুর চেম্বারের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, তার ভাই মো. মজিবুর রহমান মিলন, সীতাকুন্ড সলিমপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন কুসুম, কদমরসুল এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে মো. আজাদ রহমান, একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ জানে আলম।
লুৎফুল কবির চন্দন বলেন, ‘পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ভুয়া রেকর্ডপত্র ব্যবহার করে এসব টাকা আত্মসাৎ করেন ওই গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা। দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
বার্তাবাজার/এমকে