ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (ইবিশিস) কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন-২০২০ গত রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ নির্বাচনে প্রগতিশীল ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সমর্থিত শাপলা ফোরামের ১টি প্যানেল এবং শাপলা ফোরামের কয়েকজন সদস্য মূল প্যানেল থেকে বের হয়ে এসে আরেক প্যানেল, বিএনপি জামাত সমর্থিত ১টি এবং শুধু বিএনপি সমর্থিত ১টি প্যানেলসহ মোট ৪ টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
জানা যায়, ঐদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের ৪২৭ নং কক্ষে ভোট গ্রহণ চলে। ভোট গননা শেষে ঐদিনই রাত সাড়ে ৮ টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরওয়ার মুর্শেদ ফল ঘোষণা করেন। এতে ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি-সহ সভাপতিসহ ১০টিতে জয় পায় প্রগতিশীল ও আওয়ামী পন্থী শিক্ষক প্যানেল। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল জয় পায় সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ৫টিতে। তবে উভয় গ্রুপের বিদ্রোহী প্যানেল হতে কেউ জয়লাভ করেনি।
এদিকে নির্বাচন বিশ্লেষকদের ভোটের পর্যালোচনায় দেখা গেছে ২জন প্রার্থী ছাড়া সকল প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটে নিজ নিজ প্যানেলের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে। তবে বিএনপি জামাত সমর্থিত প্রার্থীর সর্বোচ্চ ভোট ১৩০ হলেও জামাত সমর্থক সাধারন সম্পাদক প্রার্থী ড. মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১৪৬। অন্যদিকে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিদ্রোহী ড. আরেফিন-আনোয়ারুল প্যানেলের সর্বনিম্ন ভোট ৭৫ হলেও সাধারন সম্পাদক পদে ড. আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ৪১ ভোট। অপরদিকে দিকে প্রগতিশীল শিক্ষকদের মনোনীত প্যানেলের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবর রহমান পেয়েছেন ১৪১ ভোট।
ফলে এই অসামঞ্জস্য ভোটের হিসেবে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষকদের মাঝে। অভিযোগ উঠেছে কেবলমাত্র আওয়ামীপন্থী শাপলা ফোরামের প্যানেলের ভরাডুবী নিশ্চিত করতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এসে আরেফিন-আনোয়ারুল প্যানেল নির্বাচনে অংশ নেয়।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে, নিজেদেরকে প্রগতিশীল দাবী করা শিক্ষকরা সরাসরি জামাত সমর্থিত ড. মোস্তাফিজুর রহমানকে ভোট দিয়ে শাপলা ফোরামের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবর রহমানকে ৫ ভোটে পরাজিত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
এদিকে আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের মাঝে দুটি প্যানেল দাঁড় করানোর পাশাপাশি জামায়াত বিএনপি পন্থী শিক্ষকদের সাথে আওয়ামীপন্থি কিছু প্রবীণ শিক্ষক আতাত করেছে বলে শিক্ষক সমাজে গুঞ্জন উঠেছে।
একাধিক আ’লীগ পন্থী সিনিয়র শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর আ’ লীগ সমর্থক শিক্ষকেরা এক প্যানেলে নির্বাচন করলেও এবার তা সম্ভব হয়নি। একটি পক্ষের জামায়াত বিএনপির সাথে মেরুকরণের কারণে ভোটের হিসেবে এ গড়মিল দেখা দেয়। তারা আক্ষেপ করে বলেন, আদর্শ নয় ব্যক্তি স্বার্থ এদের কাছে বড়। এরা দলটাকে জিম্মি করে রাখতে চায়।
এ বিষয়ে শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন- যাঁরা আদর্শের কথা বলে আর জামাতকে ভোট দিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষকদের পরাজয় নিশ্চিত করে তাদের ব্যাপারে মন্তব্য করতে আমার লজ্জা হয়।
শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, প্রগতিশীল মানুষজন যদি ক্ষুদ্র স্বার্থের কারনে সংগঠনটিকে বিতর্কের জায়গায় নিয়ে যায়, সভাপতি হিসেবে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আমি এখনো চাই শাপলাতে আমরা সবাই মিলেই পথ চলবো। এখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ, প্রগতিশীলতার চেতনা সমুন্নত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে আমরা একসাথে কাজ করবো।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কামাল উদ্দীন বলেন, দুইটি গ্রুপিং এর কারণে, বিভাজনের কারণে এমন পরাজয় হয়েছে। গ্রুপিং দূর করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। যখন গ্রুপ হয়েছে তখন আমি কোন গ্রুপের হয়ে ক্যানভাস করিনি। আদর্শিক জায়গায় নিজেদের মাঝে রেশারেশি পছন্দ করিনা।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস