নিজের হাতেই রাজাকারের তালিকা পুড়িয়ে দিলেন মুক্তিযোদ্ধা

রাজাকারের তালিকায় নিজের নাম দেখে আগুনে পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আইনজীবী তপন চক্রবর্তী। তিনি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তীর বাবা।

একই সঙ্গে ‘রাজাকারের তালিকা তৈরিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিকভাবে দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, সেই তালিকাটা পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজাকারের লিস্ট করবে। আমাদের কাছে তারা চিঠি পাঠিয়েছিল, আমাদের কাছে যে সব তথ্য আছে সেগুলো যেন পাঠানো হয়। রাজাকারের লিস্ট তৈরি করা দুরূহ ব্যাপার। আমরা প্রাথমিকভাবে দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, সেই দালাল আইনের লিস্টটা পাঠিয়েছি। সেই লিস্টে আমরা মন্তব্য করে দিয়েছি, অনেকের নামের মামলা উইথড্র করা হয়েছিল। সেটা তালিকায় যথাযথভাবে আসেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্তী বলেন, দালাল আইনে আমি ও আমার মা উষা চক্রবর্তীর নামে কখনো কোনো মামলা হয়নি। এ ধরনের কোনো কাগজপত্র কেউ দেখাতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ কেউ কখনো তোলেনি। কোনো তদন্তকারী সংস্থা এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানতে চায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলছেন তা অসত্য এবং হাস্যকর। আমি তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাই।

মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্তীর মেয়ে বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, এখন কেউ দোষ নিতে চাচ্ছে না। একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। তালিকা যে মন্ত্রণালয় থেকেই তৈরি হোক না কেন তা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি এ তালিকার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে এ তালিকা সংশোধন করে আমার পরিবারের সম্মান সুরক্ষা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনীষা চক্রবর্তী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদজায়ার নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা শুধু শহীদ পরিবারের জন্য নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব মানুষের জন্য লজ্জাজনক। বরিশাল বাসদের সদস্য সচিব হওয়ায় আমার পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ডা. মনীষা বলেন, যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় তপন চক্রবর্তীকে মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করেছে সেই একই মন্ত্রণালয় তাকে রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য রাজাকারের তালিকা করা জরুরি। কিন্তু মহান বিজয় দিবসে রাজাকারের যে তালিকা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাকে কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়া রাজাকার বানিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়ার তদন্ত দাবি করছি।

মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্তী বলেন, বিজয়ের ৪৮ বছর পর রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। এখন আর বেঁচে থেকে লাভ কী? এ তালিকা বাতিল করে রাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে হবে। রাজাকারের তালিকায় আমি ও আমার মায়ের নাম অন্তর্ভুক্তির পেছনে বড় ষড়যন্ত্র আছে। সমাবেশ শেষে তপন চক্রবর্তী ও মনীষা চক্রবর্তী একযোগে রাজাকারের তালিকায় অগ্নিসংযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে বাসদের উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী, বাসদের জেলা আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন ও ডা. মনীষা চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর