মির্জা ফখরুলের বাবা ছিলেন রাজাকার : খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

বিএনপি রাজাকারদের দ্বারা পরিচালিত একটি দল দাবি করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন বলেই রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করে বিএনপিকে হেনস্থা করার কথা বলছেন।’
মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি রাজাকারদের গাড়ীতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল অথচ আজ তারা রাজাকারের তালিকা নিয়ে প্রতিবাদ করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার দেশকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। জাতীয় শোক দিবস পালন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটুকুও পিছপা হয়নি। আগামীতে আওয়ামী লীরে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দল এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এখন দরিদ্র দেশ নয়, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিজয়ের মাসে বর্তমান সরকার ৪৮ বছরের আকাঙ্খিত প্রায় এগারো হাজার রাজাকার, আল বদর, আল শামসের তালিকা প্রণয়ন করেছে। ধারাবাহিকভাবে সকল স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। আমরা যখন নিজেদের উষালগ্নে শহীদ স্মৃতিসৌধে ৩০ লাখ শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছি তখন আমরা দেখতে পাচ্ছি এই অপরাধী আর জঙ্গিবাদের আশ্রয়দাতারা ভিন্ন কথা বলছে। বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম বলছে, এই রাজাকারের তালিকা নাকি বিএনপিকে হেনস্থা করার জন্য করা হয়েছে। তাহলে কি মির্জা ফখরুল আপনি মির্জা রুহুল আমিনের সন্তান ? মির্জা রুহুল আমিন ঠাকুরগাঁও এর কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী ছিলেন আপনি তারই উত্তরাধিকারী। আপনার মুখে তো রাজাকারদের পক্ষে কথা বের হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ এখনো আপনি বিএনপির মহাসচিব!
বিএনপির প্রতিষ্ঠা থেকেই রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান শাহ আজিজ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আব্দুল আলীমদের মন্ত্রী বানিয়েছেন। আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজামী, মুজাহিদকে মন্ত্রীত্ব দিয়েছিলেন। তাই আপনি এই লাইনেই কথা বলবেন এটা স্বাভাবিক। আমরা এই বিজয়ের মাসে দেশরত্ব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই বাংলার মাটিতে কোন ধরণের যুদ্ধাপরাধীদের ঠাই হবে না।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরীরা দেশের জন্য জীবন দিয়ে এই রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। আমরা তাদের কাছে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, জীবন দিয়ে হলেও আমরা সেই ঋণ শোধ করব। বঙ্গবন্ধুর রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, এই বাংলাদেশে কোথাও যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা হবে না। বাংলাদেশের কোথাও যুদ্ধাপরাধীরা রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না। বাংলাদেশের মানুষ তাদের আর গ্রহণ করবে না। এরকম একটি বাংলাদেশ আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হব।’

এ ছাড়াও বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সৈয়দ হোসেনের সভাপতিতে বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজার রহমান ফিজার, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুকউজ্জামান চৌধুরী মাইকেল, মির্জা আসফাক, বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার আলী প্রমুখ।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর