রাজাকার তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা

সদ্য প্রকাশিত ‘রাজাকার তালিকায় যুদ্ধাহত ও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম’ ওঠায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বরিশালের মুক্তিযোদ্ধারা। বিষয়টিকে হাস্যকর না করে রাজাকারের নির্ভুল তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও সুধীজনেরা।

বরিশাল শহরের শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেনের এই বাড়ি থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তুলে নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সুধীর চক্রবর্তীকে। তার সহযোদ্ধারা জানান, ৭১র ১২ই আগষ্ট সুধীর চক্রবর্তীকে হত্যা করে নগরীর চাঁদমারীতে ফেলে দেয়া হয়। আর শহীদ সুধীর চক্রবর্তীর ছেলে তপন চক্রবর্তীও ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও বরাদ্দ রয়েছে তাদের নামে। অথচ রাজাকারের তালিকায় তপন চক্রবর্তী তার মা, শহীদ সুধীর চক্রবর্তীর স্ত্রী উষা চক্রবর্তীরও নাম এসেছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাংগঠনিক কমান্ডার এনায়েত হোসেন চৌধূরী জানান, ‘প্রয়াত সুধীর চক্রবর্তী, যিনি শহীদ হিসেবে খ্যাত তাকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে চাঁদমারী কালভার্টের ওপরে গুলি করে হত্যা করে। আর তার ছেলে তপন একজন প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা।’

বরিশালের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক জানান, ‘যে ভাবে আসুক এ লিস্টে নাম এটা খতিয়ে দেখা উচিত। উদ্দেশ্য মূলকভাবে হতে পারে বা অন্য কোনভাবে হতে পারে। কাজেই সরকারের এ বিষয়ে বিশেষভাবে নজার দেয়া উচিত।’

বিজয় দিবসের সকালে নিজের নামসহ মায়ের নাম রাজাকারের তালিকায় দেখে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক, আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, অথচ সেখানে আমাকে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হলো। এত বড় অপমান আমি আশা করিনি।’

তারই মেয়ে রাজনীতিবিদ মনীষা চক্রবর্তী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার তারা। বরিশাল জেলা বাসদের সদস্য সচিব মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় একজনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিল, সেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আবার তাকে রাজাকারের তালিকায় নাম লেখালো। আমাদেরকে হেনস্তা করবার জন্যই পারিবারিকভাবে এই আক্রমন আমাদে ওপর করা হচ্ছে।’

রাজাকারের তালিকায় নাম এসেছে যুদ্ধাহত প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মিহির লাল দত্তর নামও। অথচ যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর সই করা চিকিৎসা সহায়তা পান এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পেয়েছেন বলে জানান তার সন্তান। মুক্তিযোদ্ধা মিহির লাল দত্তর ছেলে শুভব্রত দত্ত বলেন, ‘ভাতা পাচ্ছেন আমার বাবা। মুক্তিযুদ্ধে গুলি বিদ্ধ হয়েছেন। আজ এত বছর পর বাবার নাম রাজাকারের তালিকায় এসেছে। এতে আমি ভীত এবং ক্ষুব্ধ।’

এমন করেই জেলার উজিরপুর, বানারীপাড়ায় আরো ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে নির্ভুল তালিকা প্রকাশের দাবী জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। আর জেলার প্রশাসক বলেছেন প্রশ্নবিদ্ধ না হতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি লিখবেন তিনি। বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, ‘এগুলো কিভাবে হলো, সেটা আমরা যাচাই-বাছাই করে তালিকা সংশোধন করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাবো।’

মুক্তিযোদ্ধারা আরও বলছেন, বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমের বাবা মরহুম ডাক্তার মোহাম্মদ সাইজুদ্দিনের নাম রাজাকারের তালিকায় আনতে যেমনি স্বচ্ছ ও দৃঢ় ভূমিকা দেখিয়েছে সরকার, তেমনি নির্দোষ মানুষের নাম যেন রাজাকারের তালিকায় না আসে সেদিকেও দ্রুত দৃষ্টি দেবে সরকার।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর