রাজধানী সুপার মার্কেট ও গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স–ঢাকার জমজমাট এ দুটি মার্কেট প্রতিষ্ঠিত, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের জায়গায়। এখানে প্রায় দুই হাজার নয়শো দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ ভাড়া আদায় হলেও তার এক ভাগও পায় না কল্যাণ ট্রাস্ট। নানা জটিলতার সুযোগে এই টাকার বেশির ভাগই তুলে নিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
রাজধানীর অন্যতম জমজমাট বিপণিবিতান- রাজধানী সুপার মার্কেট। টিকাটুলির এই মার্কেটের প্রায় ৪ একর জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। ছোট-বড় ১ হাজার আটশো দোকান এই মার্কেটে। বর্তমানে একেকটি দোকান থেকে প্রতি মাসে ভাড়া তোলা হয় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
কিন্তু এত টাকা ভাড়া হলেও প্রতি দোকানের বিপরীতে মাত্র পাঁচশো টাকা করে পায় মার্কেটের মালিকপক্ষ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেটের দোকানগুলো বিভিন্ন হাত ঘুরে এসেছে বর্তমান ব্যবসায়ীদের কাছে।
আর এর ফাঁকে বিভিন্ন পক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও তা জমা পড়ে না মুক্তিযোদ্ধাদের তহবিলে। এর জন্য নানা যুক্তিও তুলে ধরছেন কেউ কেউ।
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের জায়গার ওপর আরেকটি জমজমাট মার্কেট গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স। ২০০১ সালে ডেভেলপার কোম্পনির মাধ্যমে নির্মিত এই ভবনে দোকান আছে প্রায় ১ হাজার একশো।
এখানেও একেকটি দোকানে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তি-মালিকরা ভাড়া আদায় করলেও, তার বিপরীতে মূল মালিক কল্যাণ ট্রাস্ট পায় মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকা।
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি ব্যবহার করে অন্যরা লাভবান হলেও দেনার দায়ে ধুঁকছে কল্যাণ ট্রাস্ট। এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি