ব্রিজ যেন মরণফাঁদ

ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের খাকুরিয়া ব্রিজটি যান চলাচল ও জন সাধারণের পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ ও অকেজো হয়ে পড়েছে। ব্রিজের মাঝখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি ও ফাটল ধরে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকছে ছোট ও মাঝারি যানবাহন। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদেরও। দেওপাড়া কালিহাতী সড়কের দেওপাড়া খাকুরিয়াতে অবস্থিত ব্রিজটির মাঝখানে ঢালাই ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ব্রিজের উপরিভাগে।

রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশাসহ ছোট-ছোট যানবাহনগুলোও চলাচল করতে পারছেন না। যাত্রী নামিয়ে ধরে ধরে পার করতে হচ্ছে এ সব যানবাহন। বড় গাড়ি তো চলা দূরের কথা হেঁটে পার হওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পার হয় এ ব্রিজ দিয়ে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় শত-শত যানবাহন বাধ্য হয়েই প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজটির উপর দিয়ে যাতায়াত করছে।

সরজমিন দেখা যায়, ব্রিজটির মাঝখানে ঢালাই ধসে বড় ধরনের বেশ কয়েকটা গর্ত হয়েছে। গর্তের উপর কাঠ ও বাঁশ ফেলে ভরাট করে কোনো মতে পার হচ্ছে হালকা যানবাহনগুলো। ব্রিজটির উপর দিয়ে যানবাহন পার হওয়ার সময় যাত্রী নামিয়ে গাড়ির একপাশ উঁচু করে যাত্রীরা যানবাহন পার করছে।

যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। কালিহাতী থেকে দেওপাড়া-ধলাপাড়া, গান্ধী, চৌরা, কালিকাপুর, তালতলা, শোলাকী পাড়া, শিবের পাড়া, মলাজানি, বাদামজানিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হলো এ ব্রিজ। প্রতিদিন প্রায় চারটি ইউনিয়নের মানুষ ব্রিজটি দিয়ে যাতায়াত করেন।

কৃষি পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন দুই বছরের অধিক সময় ধরে পারাপার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান যাত্রী ও স্থানীয়রা। ফলে সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।

সিএনজি চালক আমিনুর রহমান জানান, এ ব্রিজটির উপর দিয়ে সিএনজি চালাতে খুব ভয় করে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারি। অটোরিকশাগুলো এ ব্রিজের উপর দিয়ে পার করতে গেলে ৩-৪ জন লোক মিলে গাড়ির একপাশ উঁচু করে ধরে গাড়ি পার করতে হয়।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্রিজটির সংস্কার করা উচিত। কালিহাতী থেকে দেওপাড়াগামী সিএনজি যাত্রী রোকন তালুকদার জানান, দেওপাড়া থেকে কালিহাতী ও টাঙ্গাইল যাওয়ার বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করি।

যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অতি দ্রুত ব্রিজটির সংস্কার প্রয়োজন। স্কুল শিক্ষক আব্দুল মজিদ মিয়া বলেন আমরা বড় মানুষগুলোই ব্রিজটি পার হতে ভয় পাই। ছোট ছোট বাচ্চা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পার হয়। সব সময় ভয়ে থাকি কখন কি ঘটে।

এ বিষয়ে দেওপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন তালুকদার চারুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ব্রিজটির অবস্থা সত্যিই খুব নাজুক হয়ে গেছে। আমার ইউনিয়নসহ মোট চারটি ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করে।

তাদের বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে কি যে কষ্ট হয় সেটা বলে শেষ করার মতো নয়। তবে আশার কথা হলো আমি আমাদের ঘাটাইলের অভিভাবক এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রিজটি যাতে তৈরি করা যায় সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আশা করি অচিরেই এর সমাধান হবে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর