মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মজিবুল হকের নাম রাজাকারের তালিকায় ১ নম্বরে আসায় গোটা পাথরঘাটায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন সংগঠক এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আ’লীগের নিরলসভাবে কাজ করেছেন তার নাম রাজাকারের তালিকায় এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পাথরঘাটার মানুষ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কঠোর সমালোচনা চরছে।
রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের নামের তালিকা প্রকাশ করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ তালিকা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আমরা প্রথম পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের নামের তালিকা প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।
রাজাকারের তালিকায় মুজিবুল হকের নাম প্রকাশ পাওয়ায় তীব্র নিন্দার পাশাপাশি যারা এই তালিকায় নাম অর্ন্তূভূক্ত করেছে তাদের বিচারের দাবি উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল আ’লীগসহ অঙ্গসংগঠন এবং বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় বইছে। মঙ্গলবার উপজেলা আ’লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. জাবির হোসেন বলেন, মুজিবুল হকের নাম রাজাকারের তালিকায় আসায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এবং পাপাশাশি মঙ্গলবার আমরা এর প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
পাথরঘাটা উপজেলা আ’লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং মুজিবুল হকের জামাতা আকন মো. সহিদ বলেন, ৭৫ এর পরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আ’লীগের দুঃসময়েও দলের হাল ধরেছিলেন মুজিবুল হক।
তার নাম রাজাকারের তালিকায় ১ নম্বরে এসেছে, এটি দুঃখজনক। যারা তার নাম এই তালিকায় দিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ এটি সঠিক তদন্ত করা উচিত।
পাথরঘাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মজিবুল হক সাহেব মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এবং তৎকালীন থানা আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
সে কখনো মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন না। তবে আ’লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি থাকার কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার এক নিকটতম আত্মীয় পাগলা আজিজ এবং পাকিস্তানী মেজর পারভেজের চাপে জীবন রক্ষার জন্য একবার পটুয়াখালী মেজর পারভেজের কাছে যেতে হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, এ তালিকায় হওয়াতে আ’লীগের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে এবং প্রকৃত যারা রাজাকার তারা খুশি হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বার্তাবাজার/কেএ