পতাকা বিক্রি করে লেখা-পড়ার খরচ চালায় আমিনুল

দেশের প্রতিটি মানুষের মনেই দেশ প্রেম আছে বলেই আমরা নিরাপদে বসবাস করছি, আছি বেশ স্বাচ্ছন্দে। তবে মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের আগমনে অনেকের মনে দেশ প্রেম নানান ভাবে নাড়া দিয়ে ওঠে। এমন এক জন তরুণ দেশ প্রেমিক মো. আমিনুল ইসলাম আকন্দ।

সে বর্তমানে শেরপুর জেলার নকলায় অবস্থান করছে। নতুন প্রজন্মদের মধ্যে দেশ প্রেম জাগ্রত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পতাকা বিক্রি করা তার নেশায় পরিণত হয়েছে।

তরুণদের দেশে প্রেমে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে মার্চ ও ডিসেম্বর এই দুই মাস আমিনুল ইসলাম জাতীয় পতাকা ও দেশ প্রেমের প্রতীক বহন করে এমন বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে দেশর বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ঘুরে বেড়ায়।

সে ময়মনসিংহ জেলার তাড়াকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের দিস্তা গ্রামের মো. মজিবুর রহমান আকন্দ’র ছেলে। সে চড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে। ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়।

বড় ভাই মো. রফিকুল ইসলাম আকন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানী ঢাকার বাংলা কলেজে লেখাপড়া করছেন। আমিনুল ইসলামের ছোট ভাই জোবায়ের রহমান আকন্দ স্থানীয় এক হাফেজিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগে পড়তেছে এবং ১৮ পাড়া কুরআন মুখস্থ করা শেষ হয়েছে।

এর ছোট বোন শারমিন আক্তার স্থানীয় এক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ছে, তার ছোট বোন জান্নাতুল আক্তার স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে এবং সবার ছোট ভাই শাকিম উদ্দিন আকন্দ একই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়া লেখা করছে।

৬ ভাই-বোন ও বাবা-মা নিয়ে এই পরিবারের ব্যয় বহন করা তার দিন মজুর বাবার একার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ায়, তার বড় ভাই বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানী ঢাকার বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী হওয়ার আগে তিনিও এই ব্যবসা করতেন। এখন তার সময় সল্পতার জন্য তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছেনা।

তাই আমিনুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে মৌসুমী এই ব্যবসায় নেমেছে। এই ব্যবসায় যে লাভ হয় তা-দিয়েই ভাই-বোনের শিক্ষা খরচ চলে যায়; এমনকি লেখা পড়ার ব্যয় শেষে প্রতি বছর বেশ কিছু টাকা তার বাবার হাতে তুলে দিতে পারে বলে পতাকা বিক্রেতা শিক্ষার্থী তরুণ দেশ প্রেমিক আমিনুল ইসলাম আকন্দ জানায়।

তার আশা দেশের প্রতিটি ঘরে অন্তত একটি করে পতাকা থাকুক। তাতে করে শিশুরা কৌতুলের বসে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে পতাকার ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। ফলে শিশু কাল হতেই দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবে বলে সে মনে করে।

সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে তথা নকলা উপজেলা ভুমি অফিসের সামনে সাথে আমিনুল ইসলামের কথা হলে সে আমি মুক্তিযোদ্ধ দেখিনি, কিন্তু দেশকে মনে প্রাাণে ভালোবাসি। এই ভালোবাসার টানে স্বাধীনতা ও বিজয়ের মাস আসলে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধের প্রতি সম্মান জানাতে সে এই ব্যবসাতে বেশ স্বাচ্ছবোধ করে। তাই পতাকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফেরি করে সে।

সে জানায়, এই দুই মাসে পরিবার ছেড়ে এবং লেখা পড়ার কিছু ক্ষতি হলেও, তা পুশিয়ে নিতে তার কোন প্রকার সমস্যা হয়না। সব কিছু ফেলে জাতীয় পতাকা বিক্রি করলে তার মনে শান্তি মিলে বলে সে জানায়।

আমিনুল ইসলামের দেওয়া তথ্য মতে, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার পতাকাসহ দেশ প্রেমের প্রতীক বহন করে এমন বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতে পারে। আকার অনুযায়ী প্রতিটি পতাকা ৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

তাছাড়া হাত ও মাথা বন্ধনী ১০ টাকা থেকে ২৫ টাকা, মোটর সাইকেলসহ ছোট পরিবহনের জন্য ব্যবহার উপযোগী পতাকা বিক্রি হয় ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা করে। চলতি ডিসেম্বর মাসে সে ৪,০০০ টাকার পণ্য কিনে ব্যবসা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তার আসল উঠে গেছে। আজ ১৫ ডিসেম্বর এবং কাল ১৬ ডিসেম্বর যা বিক্রি হবে, তার সব লাভ হবে।

এই ডিসেম্বর মাসে তার ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা লাভ হবে বলে সে আশা করছে। এই টাকায় সে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন ব্যয় ও এইচএসসি-তে ভর্তি ফি বাবদ ব্যয় করবে। আমিনুল ইসলাম জানায়, পতাকা বিক্রি করে সংসার চালানো তার উদ্দেশ্য নয়, তবে পড়া লেখার খরচ চালানোর জন্য সে এই কাজকেই উপযুক্ত মনে করে।

তবে বর্তমান প্রজন্ম দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় এখন বিজয় ও স্বাধীনতার মাস ছাড়াও ভাষার মাস, শোকের মাসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে পতাকা বেচা কেনা বেশ ভালোই হয়। যে কোন শিক্ষার্থী এই ব্যবসা করে তার পড়া লেখার খরচ চালিয়ে যেতে পারে। এতে লেখা পড়ায় কোন প্রকার প্রভাব পড়বেনা বলে এই শিক্ষার্থীর দাবী।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর