দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে পুড়ে কয়লা হওয়া লাশটি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মাহবুর রহমানের বলে শনাক্ত করেছে তার পরিবার। সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া লাশটি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মাহবুর রহমানের বলে বৃহস্পতিবার সকালে তার স্বজনরা শনাক্ত করেছেন।
হাতের ব্রেসলেট দেখেই তার বাবা গোলজার রহমান ও চাচা লাভলু মিয়া তাকে শনাক্ত করেন। শুক্রবার দুপুরে পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদম গ্রামে মাহবুবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে কান্নার রোল। মা মোরশেদা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
পরিবারের লোকজন জানান, রিকশাচালক বাবার অভাবের সংসারে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে মাহবুর। তাদের বসতভিটাও নেই। অন্যের জমিতে থাকেন। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরার আশায় প্রাথমিকের গন্ডি পেরোতেই কাজের সন্ধানে ঢাকা আসেন তিনি। ২০১৫ সালে ওই কারখানায় চাকরি নেয়। তার সর্বশেষ বেতন ছিল ১৭ হাজার টাকা।
বুধবার বিকালে টেলিভিশনে খবর দেখে এক প্রতিবেশী মাহবুরের পরিবারকে জানায়। মাহবুরের খোঁজ নিতে পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোনে কল করেন। কিন্তু একের পর এক কল করা হলেও পাওয়া যায়নি। একসময় ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে মাহবুরের বাবা ও চাচা রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ঢামেব বার্ন ইউনিটের দেয়ালে সাঁটানো রোগীদের নামের তালিকাতে মাহবুরের নাম ছিল না। বৃহস্পতিবার সকালে মর্গে গিয়ে পা থেকে মাথার চুল পর্যন্ত পুড়ে যাওয়া লাশের বাম হাতে ব্রেসলেট দেখে তারা মাহবুরকে শনাক্ত করেন।
মাহবুরের চাচা লাভলু মিয়া জানান, ‘আমরা এখানে এসে জানতে পেরেছি অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার বাইরে ছিল মাহবুর রহমান। কিন্তু অন্যদের বাঁচাতে ভেতরে ঢুকে পড়ে। অন্যরা বাইরে আসতে পারলেও মাহবুর ভেতরে আটকা পড়ে।’
মাহবুরের বাবা গুলজার হোসেন বলেন, ‘আমার সংসারের হাল ধরা ছেলেটা আজ পোড়া লাশ হয়ে মর্গে পড়ে আছে। আমার ছেলের লাশ এখনও দেয়া হয়নি। ডিএনএ টেস্ট করে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আমি দ্রুত আমার ছেলের লাশ চাই।’
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার হিজলতলা এলাকার প্রাইম প্লেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে গত ১১ ডিসেম্বর বুধবার বিকালে আগুন লাগে। এ ঘটনায় শনিবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে।
বার্তাবাজার/কেএ