২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

সেই রনির বিরুদ্ধে এখনও মামলা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

আপডেট: জুন ১০, ২০১৮

সেই রনির বিরুদ্ধে এখনও মামলা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

রাজধানীতে এক তরুণীকে প্রাইভেটকারে তুলে ধর্ষণের চেষ্টার সময় চিৎকারে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেছে পথচারীরা। গণপিটুনি পর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন জনতা। ঘটনাস্থল থেকে চালক পালিয়ে গেলেও রনিকে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৯ জুন) রাতে কলেজগেট সিগন্যাল থেকে রনিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। এর পর দুপুর পর্যন্ত রনিকে আটক ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট করে জানায়নি পুলিশ।

তবে দুপুর আড়াইটার দিকে থানার ওসি জিজি বিশ্বাস জানান, আটক রনি হককে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছিল তাকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে পাওয়ার পর রনির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে কলেজগেট সিগন্যালে মদ্যপ বিবস্ত্র রনিকে আটক করে জনতা। ওই সময় প্রাইভেটকারের ভেতরে এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছিলেন রনি। তার হাত থেকে বাঁচতে তরুণী ধস্তাধস্তি করছিলেন। এ দৃশ্য দেখে সেখানে থাকা লোকজন এগিয়ে গিয়ে রনির প্রাইভেরকারটি আটকে ফেলে।

এর পর জনতা গাড়ির ভেতর থেকে আক্রান্ত তরুণী, অভিযুক্ত মদ্যপ রনি ও গাড়িচালককে বের করে আনেন। তরুণী জনতাকে জানান, তাকে রাস্তা থেকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর পর জনতা ওই তরুণ ও গাড়িচালককে উত্তমমধ্যম দেন।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাফি আহমেদ নামে একজন ওই ঘটনার বিবরণসহ একটি ভিডিওচিত্র সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন।

শেরেবাংলা নগর থানার ডিউটি অফিসার এসআই আবদুল জলিলের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার ডিউটি শুরু হয়েছে সকাল ৮টায়। রাতে এ রকম কিছু হয়েছে কিনা তিনি এখনও জানেন না। রাতের ডিউটি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগের পর ঘটনা জানাবেন বলে তিনি জানান।

বেলা সাড়ে ১১টায় যোগাযোগ করলে ডিউটি অফিসার আবদুল জলিল জানান, এসআই মিনহাজ আহমেদের নেতৃত্বে ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেন ডিউটি অফিসার। পরে থানা থেকে দেয়া মোবাইল ফোন নম্বরে এসআই মিনহাজ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এরপর আড়াইটার দিকে ওসি জিজি বিশ্বাস অভিযুক্ত রনিকে থানায় জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, মামলা করার জন্য ধর্ষণচেষ্টার শিকার তরুণীকে খোঁজা হচ্ছে।

অভিযুক্ত রনি হক ও তার গাড়ির চালককে আটক করে মাররের দুটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন রাফি আহমেদ। সেই ভিডিও দুটিও মুছে ফেলেছেন রাফি। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে ধর্ষণচেষ্টার শিকার তরুণীকে দেখা যায়। ২০-২২ বছরের চশমা পরা আতঙ্কিত তরুণীর চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক। তিনি ওড়না দিয়ে চোখের পানি মুছছিলেন।