১৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দিনাজপুর সদর, বিরল ও খানসামা হানাদার মুক্ত হয়। হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে স্থানীয় দিনাজপুর মুক্ত দিবস পালন পরিষদ।
দিনাজপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকাল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনাজপুর মুক্ত দিবস পালন পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্ত দিবস আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে দিনাজপুর মুক্ত দিবস পালন পরিষদের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে ১৪ ডিসেম্বর দিনটি দিনাজপুর তথা সারাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধাদের হামলার মুখে পাকিস্তানি সেনারা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। ১৪ ডিসেম্বর বিরল উপজেলার মঙ্গলপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিত্রবাহিনী যোগ দেয়। এরপর ওইদিনই হানাদাররা কা ন নদীর রেলওয়ের লোহার ব্রিজ, ভূষিরবন্দর ব্রিজ, মোহনপুর ব্রিজ, দিনাজপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভেঙ্গে দেওয়াসহ অনেক ক্ষতি করে। ১৩ ডিসেম্বরে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে কোনঠাসা হয়ে পাকিস্তাানি সেনারা সৈয়দপুরে চলে যায়। ১৪ ডিসেম্বরেই দিনাজপুর মুক্ত হয়।
দিনাজপুর জেলা সেক্টর কমান্ডার ফোরামের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধা আর মিত্রবাহিনী ১৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজারে এসে বিজয় উল্লাস করতে থাকেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন হয়েছিল ও প্রশাসন চালু হয়েছিল।
মুক্ত দিবস আলোচনা সভা অনুষ্ঠানটি স ালনা করেন দিনাজপুর মুক্ত দিবস পালন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল।
বার্তা বাজার/ডব্লিও.এস